সন্ধ্যা ৬:৩১ শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেলিকপ্টারের বিকল্প হয়ে আসছে ‘পেগাসাস’

অনলাইন ডেস্ক :

প্রযুক্তির বিবর্তনের অমোঘ নিয়মে পুরাতনকে ঝেড়ে ফেলে সবসময় আবির্ভাব ঘটে নতুনের। আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কি তবে হেলিকপ্টারের দিন ফুরিয়ে আসছে? যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ‘এআরসি অ্যারোসিস্টেম’ অন্তত তেমনটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কয়েক দশক আগের একটি পুরনো প্রযুক্তিকে নতুন মোড়কে ফিরিয়ে এনে আকাশপথের যাতায়াতে বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে তারা।প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘পেগাসাস’ নামক ভার্টিকাল টেক-অফ জাইরোকপ্টারটি বর্তমানে হেলিকপ্টারের একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই যানটি হেলিকপ্টারের মতো খাড়াভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারলেও এর কার্যপদ্ধতি অনেকটাই ভিন্ন। এতে থাকা ওপরের রোটর বা পাখাটি ইঞ্জিনের বদলে মূলত বাতাসের চাপের সাহায্যে ঘোরে, যা যান্ত্রিকভাবে একে অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর করে তুলেছে।

এআরসি অ্যারোসিস্টেমের প্রধান নির্বাহী ড. সাইয়্যেদ মোহসেনি জানান, তারা আসলে ষাটের দশকের একটি বিস্মৃত নকশাকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তৎকালীন ‘অ্যাভিয়ান ২/১৮০’ মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই পেগাসাসে ব্যবহার করা হয়েছে হাইব্রিড-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন। সাধারণ জাইরোকপ্টারের উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের প্রয়োজন হলেও পেগাসাস অনেকটা ‘জাম্প টেক-অফ’ বা লাফিয়ে ওঠার মতো করে সরাসরি আকাশে উড়াল দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেলিকপ্টারের তুলনায় এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় অনেক কম। যেখানে একটি সাধারণ হেলিকপ্টার মিশনে প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার ডলার খরচ হয়, সেখানে পেগাসাসের পরিচালনা ব্যয় হবে মাত্র কয়েকশ ডলার। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসা সেবা বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে এই যানটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।যদিও এটি হেলিকপ্টারের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির এবং এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার, তবে এটি বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ হেলিকপ্টার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম। পেগাসাসের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর নিরাপত্তা। মাঝ আকাশে কোনো কারণে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলেও এর পাখাগুলো বাতাসের তোড়ে ঘুরতে থাকে, যা যানটিকে অনেকটা প্যারাসুটের মতো ধীরে ধীরে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসতে সাহায্য করে।

তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন গবেষকরা। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস সায়েন্সের শিক্ষক ড. ডগলাস থমসনের মতে, জাইরোকপ্টারগুলো সাধারণত আকারে ছোট হয়। যাত্রী সংখ্যা বাড়াতে গেলে এর রোটর বা পাখার আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় করতে হয়। এছাড়া এর বিশেষ উড্ডয়ন পদ্ধতির জন্য পাইলটদের বাড়তি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন পড়বে। তবুও অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা জরুরি পণ্য পরিবহনের মতো সময়োপযোগী কাজে এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক ডজন পেগাসাসের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বড় অংকের বিনিয়োগ নিশ্চিত করে আগামী তিন বছরের মধ্যে এই যানটি বাণিজ্যিকভাবে আকাশে উড়বে বলে স্বপ্ন দেখছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *