সন্ধ্যা ৭:২১ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বদেশে ফেরার দাবিতে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার সমাবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট :
যখন বুঝবো মিয়ানমার সরকার চূড়ান্তভাবে আমাদের ফেরত নিতে রাজি নয়, তখন আমরা নিজ দায়িত্বে ২০১৭ সালের মতো সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারে ঢুকে যাবো।’ শুক্রবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২টি আশ্রয় শিবিরে গণহত্যা দিবসের সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।

রোহিঙ্গা এফডিএমএন রিপ্রেজেনটেটিভ কমিটির নেতা ছৈয়দ উল্লাহ ও মাস্টার কামাল বলেন, আমাদেরকে ফিরিয়ে না নেয়ার জন্য মিয়ানমার নানা ছলচাতুরী করছে। কিন্তু আমরা এভাবে এখানে পড়ে থাকতে পারি না। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও তদবির করব। তারপরও যদি ফেরত না নেয় তাহলে ২০১৭ সালে যেভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলাম, ঠিক সেইভাবে সীমানা অতিক্রম করে আমরা নিজ দেশে ফেরত যাব।
রোহিঙ্গা ঢলের ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দিবসের কর্মসূচিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অংশ নেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। তারা সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, মানববন্ধন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে নিজ জন্মভূমি রাখাইন রাজ্যে (আরাকান রাজ্য) ফিরে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুপুর ১২টার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে সব কর্মসূচি শেষ হয়।
‘গণহত্যা’ দিবসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হয়েছে উখিয়ার লম্বাশিয়া আশ্রয় শিবিরের খেলার মাঠে। সেখানকার সমাবেশে ২০-২৫ হাজার রোহিঙ্গার সমাগম ঘটে। যার অধিকাংশ কিশোর, তরুণ ও যুবক। হাত তুলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এ সমাবেশে বক্তব্য দেন আরাকান রোহিঙ্গা পিস ফর হিউম্যান রাইটসের সভাপতি জুবায়ের আহমদ, রোহিঙ্গা এফডিএমএন (ফোর্সিবলি ডিসপ্লেসড মিয়ানমার ন্যাশনালস) রিপ্রেজেনটেটিভ কমিটির মুখপাত্র মোহাম্মদ কামাল, বোর্ড মেম্বার রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার ছৈয়দ উল্লাহ, মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ সুয়াইব প্রমুখ।
জুবাইর আহমদ বলেন, আমরা দ্রুত মিয়ানমারের জন্মভূমিতে ফিরতে চাই। আমরা (রোহিঙ্গারা) সে ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ। মর্যাদার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গারা যেভাবে দল বেঁধে বাংলাদেশ পালিয়ে এসেছিল, ঠিক সেভাবে আবার বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যেতে বাধ্য হবে।
রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুসা বলেন, বাংলাদেশের এই আশ্রয় শিবিরে আমরা ছয়টি বছর কাটিয়ে দিয়েছি। এখন আর সে সুযোগ নেই। আমাদের ফিরে যেতে হবে নিজেদের জন্মভূমিতে। মর্যাদার সঙ্গে স্বাধীনভাবে ফেরার পথ (প্রত্যাবাসন) তৈরিতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সমাবেশে শিশুসহ প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা অংশ নিয়েছেন বলে জানান রোহিঙ্গা নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *