
-
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :: সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইমাম হোসাইন রনির টঙ্গীর বাসায় চলছে শোকের মাতম। বাবা আব্দুল লতিফ ছেলে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন। ছোটভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা মনে করে তার বড় বোন হাজেরা খাতুন বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। মা আলিমুন্নেছা ২০২০ সালে মারা যান।
নিহতের ছোটভাই হোসাইন আহমেদ জসিম জানান, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে তাদের গ্রামের বাড়ি। টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকায় বাড়ি করে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে রনি দ্বিতীয়। রনি দেওড়া এলাকায় টেইলার্স ও মুদি দোকানের ব্যবসা করতেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ভাগ্যবদলের আশায় পাড়ি জমান সৌদি আরবে। আট বছর ধরে সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
দুই মাস আগে ছুটি নিয়ে দেশে আসেন। ছুটি কাটিয়ে গত শনিবার (২৫ মার্চ) সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন। আগামী ১ এপ্রিল তার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে হাতে বেশ কিছু দিন সময় থাকায় ওমরাহ পালন করে সবার জন্য দোয়া করার কথা ছিল। সেই আশা আর পূরণ হলো না তার।
নিহতের বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যাতে আমার ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। একবারের জন্য হলেও ছেলের লাশটি দেখে শেষ বিদায় জানাতে পারি।
এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইমাম হোসাইনের বাড়িতে গিয়ে তার স্বজনদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, মরদেহ আসার পর সরকারি নির্দেশনা অনুসারে সব কাজ সম্পন্ন করা হবে।