বিকাল ৩:৪৮ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন সৌদি থেকে ঢাকার ফ্লাইট সিলেটে অবতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট :

আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে প্রবল আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী একটি ফ্লাইট সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

আগুন লাগার ঘটনা ও তৎপরতা

দুপুর আড়াইটার দিকে আকস্মিকভাবে বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এই কার্গো সেকশনে মূলত আমদানি করা পণ্যসম্ভার সংরক্ষণ করা হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে আরও ১৬টি ইউনিট সেখানে পৌঁছায় এবং আগুন নেভানোর কাজে অংশগ্রহণ করে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম জানান, মোট ৩৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সম্মিলিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

ফ্লাইট অপারেশনে প্রভাব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এই আগুনের কারণে সৌদি থেকে আসা একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকার বদলে সিলেটে অবতরণ করে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর থেকে সব ফ্লাইট অপারেশন স্বাভাবিক রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সকলকে নিরাপদ থাকার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি এবং আগুনের প্রভাব সীমিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।”

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হওয়ায় এর কার্যক্রমে কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বড় ধাক্কা দেয়। কার্গো সেকশনে আগুন লাগা মানে আমদানি-রপ্তানিতে বিলম্ব, যা ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে, খাদ্যপণ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশের আমদানিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পাঠকদের জন্য এই খবরের গুরুত্ব হলো, দেশের প্রধান বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। আগুনের মতো ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে, সেজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে আজকের আগুনের ঘটনা দেশের বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে সাময়িক বাধার সৃষ্টি করলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *