
স্টাফ রিপোর্টার :
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য দেশের আটটি বিভাগের শহরে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাজধানীর শাহবাগ মোড়সহ অন্যান্য জায়গায় বিক্ষোভকারীরা টানা দ্বিতীয় দিন সড়ক অবরোধ করে সরকারের কাছে দ্রুত বিচার ও ভারতীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশের দাবি জানান।
শাহবাগ মোড়ে সকাল থেকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত দেশাত্মবোধক গান ও প্রতিবাদী স্লোগানে পরিবেশ উত্তেজিত করেন। ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘দিল্লি না ঢাকা?’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান আন্দোলনের মূল আকর্ষণ।
দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ হাদির কবর জিয়ারত করতে আসেন। আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে সরে গেলেও তার প্রস্থান পর আবারো অবস্থান নেন। এতে যানজট ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়।
রাত ১১টার দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আশ্বাস দেন, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারির পর চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ৮ বিভাগে অবরোধের ঘোষণা দেন এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের জন্য কিছু গণমাধ্যমকে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি কর্মীদের সতর্ক করে জানান, অফিসিয়াল ঘোষণা ছাড়া অন্য কোনো সংবাদ বিশ্বাস করবেন না।
জাবের বলেন, এই অবরোধ শুধু বিচার দাবির নয়, এটি ভারতের প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম। হত্যার হুমকি সত্বেও আন্দোলনকারীরা সাহসীভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই আন্দোলন দেশের বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে এনে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলো ফেলেছে। সাধারণ মানুষের গণঅংশগ্রহণ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়। এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।