বিকাল ৫:৫৫ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোকশান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় জয়পুরহাট চিনিকল

ডেস্ক রিপোর্ট :

দেশের অন্যতম চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকল। নানা সমস্যায় এ প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকবছর থেকে লোকশান গুনেই চলেছে। কৃষকদের জমিতে বছরে উচ্চ মূল্যের তিন ফসল উৎপাদন হয়। এছাড়া আখের দাম কম, আখ চাষে সময় বেশি লাগা ও টাকা উত্তোলনে নানা ভোগান্তির কারণে জয়পুরহাটে আখ চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা। তাই আখের চাষ কমে যাওয়ায় জেলার একমাত্র ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ৪শ কোটি টাকা লোকশানের বোঝা নিয়ে বন্ধের দ্বারপ্রান্তে।

যদিও চিনিকল কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার আখের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাই কৃষকরাও আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন। এতে করে জয়পুরহাট চিনিকল আবারও আগের অবস্থানে ফিরে আসবে।

নাশকতার অভিযাগে গ্রেপ্তার ৮
জানা গেছে, ১৯৬০ সালে ২১৬ একর জমির উপর ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় জেলার একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান জয়পুরহাট চিনিকল। আর চিনি উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬৩ সালে। এরপর থেকেই এ জেলা ও আশপাশের জেলাতে কৃষকরা ব্যাপক আখ চাষ করতো। চিনি উৎপাদনে এই সুগার মিলটি বর্তমানে রয়েছে দেশের শীর্ষে।

কৃষকরা জানায়, আখ চাষ করতে ১২ থেকে ১৪ মাস সময় লাগে। কিন্তু একই সময়ে সেই জমিতে তিন ফসল চাষ করা যায়, লাভও বেশি হয়। গেল মৌসুমে আখের দাম কম ও টাকা উত্তোলনে নানা ভোগান্তির কারণে জয়পুরহাটে আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এখানকার কৃষকরা।

চিনিকল সূত্র বলছে, এক সময় চিনিকলে ৪ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত আখ মাড়াই চলতো। কিন্তু বর্তমানে আখ চাষ কম যাওয়ায় গেল মৌসুমে মাড়াই কার্যক্রম চলেছে মাত্র ১৯ দিন। এতো অল্প সময় মিলটি চলার কারণে শ্রমিক কর্মচারীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অনেকের আশঙ্কা দেশের অন্য চিনিকলের মতো এই মিলটিও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে মিলটি বেশি দিন চালু ও টিকিয়ে রাখার জন্য সুগারমিল কর্তৃপক্ষ কৃষকদের নানা রকম প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা ও প্রণোদনা দিচ্ছেন। আখের দাম ১৮০ টাকা মণের পরিবর্তে দাম বাড়িয়ে ২২০ টাকা করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আখ চাষীদের প্রতি একর জমিতে সার, বীজ, সেচে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ দিচ্ছেন মিল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ১৬শ একর জমির জন্য ২২শ আখ চাষীকে ৪২ লাখ টাকা প্রণোদনা দিচ্ছেন তারা।

অন্যদিকে, আখের চাষ বাড়াতে জেলা কৃষি বিভাগ আখ চাষের সাথে সাথী ফসল হিসেবে অন্যান্য ফসল চাষে পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধ করছেন। এ সব নানা পদক্ষেপ নিয়ে দেশের বৃহত্তম সুগারমিলটি এবছরের ডিসেম্বরে ২৫ দিন চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সুগারমিল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আখ চাষ বৃদ্ধি করে পরবর্তী মৌসুম গুলোতে আরও বেশি দিন মিল চালু রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

জেলায় এবার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে ১ হাজর ৮০০ মেট্্িরক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ১১শ ৯২ মেট্রিক টন চিনি। মিলের খোলা চিনির দাম প্রতিকেজি ১০০ টাকা ও প্যাকেট ১০৫ টাকা। বিগত সময়ে ৩৩৫ কোটি টাকা লোকশান ছিল গত মৌসুমে সুগারমিলটির লোকশান দাড়িয়েছে ৪০০ কোটিতে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছী গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ধান, আলু ,সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষ করলে উত্তোলণের পর হাট বাজারে বিক্রি করলে আমরা সাথে সাথে টাকা পাই। বছরে ৩ থেকে ৪ টি ফসল হয়। আর আখ চাষ করলে ১২ থেকে ১৪ মাস সময় লাগে, দাম কম।

গাড়িয়াকান্ত এলাকার মোখলেসুর রহমান বলেন, আখের টাকা ডবলার ও মোবাইলের মাধ্যমে অনেকদিন পর দেয়। আমরা এত কিছু বুঝিনা, ফসল বিক্রি করে সাথে সাথে টাকা নিব অন্য ফসলের মত। এজন্য আখ চাষ অনেকেই বাদ দিয়েছে।

জয়পুরহাট টিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা ইউনিয়নের ক্রীড়া সম্পাদক শীতল চন্দ্র মজুমদার বলেন, আখের অভাবে এবার মাত্র ১৯দিন সুগারমিল চলেছে। তবে এবার চিনি ও আখের দাম বাড়ানোর কারণে আখ চাষ বাড়ার পাশাপাশি সামনে মিলটি আরও বেশিদিন চলবে বলে আশা করছি।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, উচ্চ মূল্যের বিকল্প ফসলের কারণে আখ চাষ কমেছে। আমরা আখচাষকে লাভবান করার জন্য আখের সাথে সাথী ফসল হিসেবে অন্য ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখলাছুর রহমান বলেন, গত মৌসুমে আখের মূল্য ১৮০ টাকা মণ ছিল। এবার তার পরিবর্তে প্রতিমণ ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আখচাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা, ঋণ সহায়তা দিয়ে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করে সামনের মৌসুমে আরও বেশিদিন মিলটি চালানোর চেষ্টা করছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *