রাত ১২:৩৩ রবিবার ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রক্তে সীসার উপস্থিতি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা : মাহমুদা আফরিন

Icddrb এর এই নিউজটা পড়ে অনেক বাচ্চার অভিভাবকই চিন্তিত!!!
কিন্তু আপনি কি জানেন দৈনন্দিন কিভাবে এই সীসা আমাদের ভেতরে স্থান করে নিচ্ছে??

❌রক্তে সীসার ( Lead ) উপস্থিতি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি শরীরে ধীরে ধীরে জমা হয় এবং নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিচে রক্তে সীসার উপস্থিতির প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করা হলো:

🧪 রক্তে সীসা উপস্থিতির প্রধান কারণসমূহ:

১. দূষিত পানি পান করা:-
পুরনো লেড-পাইপ বা পাইপলাইন থেকে পানি এলে তা সীসা দ্বারা দূষিত হতে পারে।
কিছু অঞ্চলে পানির পরিশোধন না হলে তা সীসা বহন করতে পারে।

২. পুরনো রং বা দেওয়াল পেইন্ট:–

পুরনো ভবনের দেয়ালে ব্যবহৃত লেডযুক্ত রঙ বা পেইন্ট ধুলার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে, বিশেষত শিশুদের জন্য এটি খুব বিপজ্জনক।

৩. খেলনা ও প্রসাধনী সামগ্রী:-

কিছু নিম্নমানের খেলনা, প্রসাধনী (বিশেষ করে কসমেটিক্স, হেয়ার ডাই, কাজল) এবং গয়নাতে সীসা থাকতে পারে।

৪. শিল্প বা কারখানায় কাজ করা:-

ব্যাটারি তৈরির কারখানা, রং তৈরি, কাচ তৈরি বা ধাতব কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রক্তে সীসার পরিমাণ বেশি হতে পারে।

৫. আয়ুর্বেদিক বা হোমিওপ্যাথিক কিছু ওষুধ:-

কিছু ভেষজ বা অপ্রমাণিত ওষুধে সীসা, পারদ ইত্যাদি ক্ষতিকর ধাতু মিশ্রিত থাকতে পারে।

৬. মাটি বা ধুলাবালিতে সীসা:-

রাস্তার ধারে বা পুরনো শিল্প এলাকার মাটিতে সীসা জমা থাকতে পারে, যা শিশুদের খেলাধুলার সময় মুখে চলে যেতে পারে।

৭. সীসা যুক্ত টিনজাত খাবার বা পাত্র:-

কিছু টিনজাত খাবার বা লিড-গ্লেজড পাত্রে খাবার সংরক্ষণ করলে সীসা খাবারের মধ্যে চলে যেতে পারে।

⚠️ রক্তে সীসার প্রভাব:

▪️বাচ্চাদের বুদ্ধি ও স্নায়বিক বিকাশে সমস্যা
▪️ঘন ঘন পেট ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য
▪️আচরণগত সমস্যা
▪️উচ্চ রক্তচাপ (বড়দের মধ্যে)
▪️কিডনি ও নার্ভের সমস্যা

✅ প্রতিরোধ ও করণীয়:

🔸বিশুদ্ধ পানি পান করা
🔸শিশুদের ধুলা-মাটি থেকে দূরে রাখা
🔸লেড-মুক্ত পেইন্ট ব্যবহার
🔸কমদামী বা সন্দেহজনক প্রসাধনী ও ওষুধ এড়িয়ে চলা

🔺রক্তে সীসার মাত্রা পরীক্ষার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

মাহমুদা আফরিন
পুষ্টিবিদ
#সচেতনতা #লেড #nutritionist

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *