
রংপুর প্রতিনিধি :
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) অপসারিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অপসারিত মেয়র ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা অন্তবর্তীকালীন সরকারকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেন। দাবি আদায় না হলে ঈদের পর রংপুরকে অচল করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তার এই বক্তব্যে রংপুরে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মোস্তাফিজার রহমানের বিক্ষোভের পর রাতে প্রেসক্লাব এলাকায় পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন সংগঠনের নেতারা।
এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল থেকে জাতীয় পার্টিকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর-দালাল-ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেন। এসময় তারা অপসারিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তাদের প্রতিহত করতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। বিক্ষোভে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
এর আগে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাত ৯টায় রংপুর প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগর ভবনের দিকে অগ্রসর হয়ে পরে জাহাজ কোম্পানি মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে, সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক কমিটির রংপুর জেলা সংগঠক আলমগীর নয়ন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে লিয়াজোঁ করে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা আজ রংপুরে মিছিল করেছে। মিছিলে তারা বলেছে আগামী সাত দিনের মধ্যে অপসারিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের পুনর্বহাল করতে হবে। আমরা বলতে চাই এই সাহস উনি (মেয়র মোস্তফা) কোথায় পেয়েছেন?
প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়ে এনসিপির এই সংগঠক বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, তারা আবু সাইদের রংপুরে কীভাবে মিছিল বিক্ষোভ করার সাহস পায়? আমরা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিতে চাই— এই মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের দোসর চামচাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। যদি গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।