রাত ৩:২৬ মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্পের এই অঙ্গনে যতটা পথ এসেছি তা সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়: শ্যামল শিশির

মিডিয়া প্রতিনিয়ত মেধাবীরা যুক্ত হচ্ছেন তেমনি একজন মেধাবী চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা শ্যামল শিশির।  সম্প্রতি সময়ে  শ্যামল শিশিরের সাথে জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল  ‘আপনার সংবাদ.কম’ এর  তার কাজ নিয়ে আলোচনা হয়।

১। সম্প্রতি আপনি কি কাজ নিয়ে ব্যস্ত?

শ্যামল শিশির :জীবনে নানামুখী ব্যস্ততার সংযুক্তি ঘটেছে। বাজার অব্যবস্থাপনার কারণে বর্ধমান দ্রব্যমূল্যের দুঃসময়ে একটু ভালো থাকবার জন্য অনেককিছুই করতে হচ্ছে। ফরমায়েশি লেখালেখি, তথ্যচিত্র- এভি নির্মাণের সাথে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি নিজের দু’টি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের ঘষামাজা চলছে।

২। বাংলা সংস্কৃতি নিয়ে আপনার কি ভাবনা?

শ্যামল শিশির :বাংলা সংস্কৃতি মানে বাঙ্গালীর সংস্কৃতি যদি বুঝিয়ে থাকেন তাহলে তার পরিসর অনেক বিস্তৃত। আর যদি বাংলাদেশি বাংলা সংস্কৃতির ব্যাপারে জানতে চান তাহলে কিছু বলবার আছে। প্রথমে বলে রাখি, সংস্কৃতি বলতে প্রচলিত অর্থে শুধু কলাকেন্দ্রিক প্রকাশিত রূপকে বুঝলেও সংস্কৃতি কিন্তু একটি ভূখণ্ডের সমগ্র মানুষের জীবনাচরণের সামগ্রিকতা। উল্লেখিত অর্থে বাংলা সংস্কৃতি সংকুচিত হচ্ছে ক্রমেই। অস্তিত্বসংকট রোগে আক্রান্ত এই জাতি শেকড় উপরে ফেলে বহির্বিশ্বের দিকেই বেশি মনোযোগী। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে বিউটি পার্লারে নিলেও বেশিদিন চকচকে রাখা যায় না। পৃথিবীতে উন্নত জাতি-গোষ্টির ইতিহাসে নিজের শেকড় ভুলে যাবার গল্প নেই।

৩। বড় তারকার ডেট যে পায় সে ততো বড় নির্মাতা হয় এমন কথা প্রচলিত। আপনি কি এইটার সাথে একমত?

শ্যামল শিশির :তারকা নির্ভরতা বড় নির্মাতা বানায় না, নির্মাতাও নয়। বড় নির্মাতা বড় হয়ে উঠে তাঁর আপন মহিমায়, গুণে। বড় নির্মাতারা তারকা বানায়। আর চাপা ও চিপা সর্বস্ব কিছু মিডিয়াবাজ তারকাদের ব্যবহার করে বড় হয়ে উঠতে চায়, কিন্তু পারে না। আমাদের প্রজন্মের সামনে বড় উদাহরণ যুবরাজ শামীম। শামীমের তারকার প্রয়োজন হয়নি, সে তাঁর অস্থির জোরে অস্তিত্বের জানান দিয়েছে।

৪। এই অঙ্গনে আসালেন কিভাবে?

শ্যামল শিশির :শিল্পের সাথে আমার সম্পৃক্ততার গল্প মাটি সংলগ্ন। আমার বাবা একজন চাষা। ভদ্র ভাষায় যাকে কৃষক নামে ডাকা হয়। তো ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজ, পড়াশোনা করার পাশাপাশি বই পড়া ও জারিসারি, পালাগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা সহ নানাবিধ গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত হতে ভালো লাগতো। বলে রাখি, অস্টমশ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই আমার কবিতা, ছোটগল্প, গদ্য বগুড়ার স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকার ছোটদের পাতায় প্রকাশিত হতে শুরু করে। এরপর তো এসএসসি পরীক্ষার পর যাত্রাপালার সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করলাম। ততদিনে পত্রপত্রিকার সাহিত্য সাময়িকী পেরিয়ে আমার দৃষ্টি চলে গেছে সম্পাদকীয় ও বিনোদন পাতায়। এইসএসসি শেষে এলাম ঢাকায়। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার চেয়ে মঞ্চ, বই পড়া, গান শোনা, রাত বিরাতে নির্জন ঢাকা শহরে দল বেঁধে ঘুরতে ভালো লাগতো। এসবের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকের সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করি ২৫ জুলাই ২০১০ সালে। তারপর থেকে লেগেই আছি। এই কয়েক বছরে অনেক আলোচিত নির্মাতার সাথে নাটক, বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্রের কাজ করেছি- কখনো চিত্রনাট্যকার, কখনো সহকারি পরিচালক হিসেবে। একটা কথা বলে রাখি- শিল্পের এই অঙ্গনে যতটা পথ এসেছি তা সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়, আমাকে পথ দেখানোর কেউ ছিলো না। বাস্তবতাকে হাতের মুঠোই নিয়ে পাড়ি দিয়েছি-দিচ্ছি জীবনের প্রতিটি সিঁড়ি। তবে আমি অনেকের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা কাজের ক্ষেত্রে আমার উপর আস্থা রাখেন, রাখছেন, ভবিষ্যতেও রাখবেন।

৫। আপনি নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার, তবে কোনটায় আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

শ্যামল শিশির :লেখালেখিটাই আমার ভালো লাগে। একটা সময় ইচ্ছে পোষণ করেছিলাম লেখালেখি করেই জীবনধারণ করব। কিন্তু বাস্তবতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। চিত্রনাট্য লিখিয়ে নেবার আগে পরিচালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি ফোনের পরে ফোন করতে থাকে। ফাইনাল ড্রাফট পাবার পর থেকে উল্টো আমাকেই ফোন করতে হয় দিনের পর দিন। ব্যতিক্রমও আছে- যারা অগ্রিম টাকা দিয়ে চিত্রনাট্য লিখিয়ে নিয়েছে। পরিচালনাও উপভোগ্য আমার কাছে। জীবনে অন্তত তিনটা চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চাই।

৬। দর্শকদের উদ্দেশ্য কিছু বলেন।

শ্যামল শিশির :ওটিটি যুগের দর্শকেরা অনেক শিক্ষিত। দর্শককে ফাঁকি দেবার ও বুঝানেরও কিছু নেই। ভালো মানের শিল্পকে দর্শক বরাবরই গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *