রাত ৯:১৭ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভরা মৌসুমে গোপালগঞ্জে পাটের হাটে ক্রেতা শূন্য

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় পাটের ভরা মৌসুমে হাটে মিলছে না ক্রেতা। দাম কম হওয়া পাট বিক্রি না করেই ফিরে যাচ্ছেন কৃষকরা।

শুক্রবার উপজেলার ভাটিয়াপাড়া হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাটটিতে প্রায় একশটির মত পাটের আড়ত রয়েছে। গোপালগঞ্জসহ আশপাশের অনেক জেলা-উপজেলা থেকে কৃষকরা হাজার হাজার মণ পাট আমদানি করেছেন এ হাটে।

কাশিয়ানী উপজেলার মাজড়া গ্রামের কৃষক ফরিদ মোল্লা। তিনি ৩ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। পাটের ফলন ভালোই পেয়েছেন। হাটে পাট বিক্রি করতে এসে হতাশায় পড়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, “এ বছর সারের ও বীজের দাম বেশি। পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানো শ্রমিকদের প্রতিদিন ৯০০ টাকা মজুরি দিয়েছি। পাট ভেদে ১ মণ উৎপাদনে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়েছে। হাটে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা দরে পাট বিক্রি হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “লোকসানের ভয়ে পাট বিক্রি করিনি। পাট বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। পাট বিক্রি করতে পারিনি। তাই সংসারের প্রয়োজনীয় পণ্য হাট থেকে কিনতে পারলাম না।

এ সময় মণ প্রতি পাটের দাম ৪ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি ।

ভাটিয়াপাড়া হাটের পাটের আড়তদার সৈয়দ লিয়াকত আলী পলাশ বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে কৃষক পাটের ভালো দাম পেয়েছেন। এ বছর কৃষক ভালো দামের আশায় বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেন। জুটমিলগুলো সেভাবে পাট কিনছে না। বাজারে পাটের ক্রেতা কম। এ কারণে অনেক কৃষক পাট বিক্রি না করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।”

দেশের বেশ কয়েকটি জুটমিলের পাট ক্রয় প্রতিনিধি আব্দুল মান্নান বলেন, “বিদেশে পাটজাত পণ্য যাচ্ছে না। এই জন্য দেশের মিলগুলো পাট কিনছে না।”

বিদেশে পাটজাত পণ্য রপ্তানি শুরু হলে দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুর কাদের সরদার বলেন, চলতি বছর গোপালগঞ্জে ৫৮ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে।
কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্যে পাট বিক্রি করতে পারে, সে ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *