রাত ১০:১৯ শনিবার ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈদেশিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত ৩২৯ কোটি ডলার

বানিজ্য ডেস্ক রিপোর্ট :

বহুদিন পর বৈদেশিক লেনদেনে একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা পেয়েছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বৈদেশিক লেনদেনে উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩২৯ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চিত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়—অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা, রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহ, আর বৈধ পথে ডলার প্রাপ্তির ধারাবাহিক প্রয়াসের সম্মিলিত ফল। যদিও এর পেছনে কিছু ত্যাগও করতে হয়েছে শিল্প ও উৎপাদন খাতে।প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর যেখানে সামগ্রিক লেনদেনে ৪৩০ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল, এবার সেখানে ৩২৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত। এর আগের বছর ঘাটতি ছিল ৮২২ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২০-২১ সালের পর এই প্রথমবার এমন ইতিবাচক ভারসাম্য তৈরি হলো। বাণিজ্য ঘাটতি কমে এসেছে ২২৪৩ কোটি ডলার থেকে ২০৪৫ কোটিতে। মূল কারণ, রপ্তানি বেড়েছে এবং আমদানি কিছুটা সংযত হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে কাঁচামাল সংকটের মতো বাস্তবতা, যা শিল্প খাতকে ব্যথিত করছে।রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩৩ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬.৮২ শতাংশ বেশি। হুন্ডি কমাতে সরকারের নানা উদ্যোগের সুফল এতে স্পষ্ট। বর্তমানে খোলাবাজার ও ব্যাংকিং চ্যানেলের ডলার দরে তেমন ব্যবধান নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ডলার পাচার রোধে নজরদারি এবং এলসি অনিয়মে কঠোরতা রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।গত সরকারের সময় এলসি জালিয়াতি, পাচার ও দুর্নীতির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী-রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সরকার দাবি করছে, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগও চলছে। এখন এক পণ্যের নামে এলসি খুলে অন্য পণ্য আনার সুযোগ সীমিত। ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিদেশে টাকা পাঠানোর পথেও কঠোরতা আনা হয়েছে। এতে বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরেছে।রিজার্ভে ফিরেছে প্রাণ এক সময় নেমে যাওয়া রিজার্ভ এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। জুন শেষে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৭৭ বিলিয়ন ডলারে, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আইএমএফের নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী (BPM6) এই রিজার্ভ ২৬.৭৪ বিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করায় ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত এক মাসেই ডলার কমেছে ৩ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আমদানিকারকদের জন্য স্বস্তির খবর।অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈদেশিক লেনদেনের এই সাফল্য ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ শিল্পখাতে কাঁচামাল সংকট, বৈদেশিক বিনিয়োগে মন্থর গতি এবং গ্লোবাল মার্কেটের অনিশ্চয়তা এখনো আছে। তাদের পরামর্শ, রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করলেই এই ঘুরে দাঁড়ানো হবে স্থায়ী। উন্নতির এই পথে সাহসী পদক্ষেপ ও কার্যকর নীতির সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির আগামীদিনের চালিকাশক্তি।

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
sharethis sharing button

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *