
স্টাফ রিপোর্টার :
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, পরিচিত নাম ঝুমা তালুকদারকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নাসরিন সুলতানা এই তথ্য প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেত্রী হিসেবে নেত্রকোনার রাজনৈতিক পরিধিতে পরিচিত। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য এবং দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক। পারিবারিক সূত্রে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদারের কন্যা। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন, বিশেষ করে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে। তবে, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। এরপর তিনি নেত্রকোনা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করেন, কিন্তু দলীয় প্রার্থী মোশতাক আহমেদ (রুহি)-এর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে গত বছর ৫ আগস্ট তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়, যা থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। মামলার পর থেকে তিনি পরিবারসহ ঢাকা শহরে অবস্থান করছিলেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে নেত্রকোনা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।’
ঝুমা তালুকদারের এই গ্রেপ্তারকে স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার গ্রেপ্তার নেত্রকোনার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন ধরনের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা দলীয় অন্দরে ভিন্নমত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফল হতে পারে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
ঝুমা তালুকদারের গ্রেপ্তার নেত্রকোনা জেলা এবং বিশেষ করে দুর্গাপুর উপজেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এই অধ্যায় ভবিষ্যতে কিভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, এই ঘটনা স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতির ধারায় নতুন মোড় এনেছে।