বিকাল ৫:৩৯ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেড়যুগ পর ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ ফুটবল দল

প্রতিদিন স্পোর্টসঃ
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সাফল্য এসেছিল একবারই, ২০০৩ সালে। এরপর গত ২০ বছরে লাল-সবুজ দল ফাইনালই খেলতে পেরেছে মাত্র একবার। তবে ২০০৫ সালে হওয়া করাচীর সেই ফাইনালেরও এখন দেড় যুগ পেরিয়েছে। এবারের সাফে ১৮ বছর পর আবারও শিরোপার মঞ্চে পা রাখার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে সেক্ষেত্রে জামালদের পাড়ি দিতে হবে কুয়েতের কঠিন পরীক্ষা।
শনিবার (১ জুলাই) বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ কুয়েতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ(Bangladesh)।  ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায়। বাংলাদেশি চ্যানেল টি স্পোর্টস খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
বহুবছর পর আরেকবার ফাইনালের সম্ভাবনা উঁকি দিলেও বাস্তবতার নিরিখে লড়াইটা বেশ কঠিন। বাংলাদেশের চেয়ে র‌্যাংকিংয়ে ৫১ ধাপ এগিয়ে কুয়েত। মধ্যপ্রাচ্যের এই দলটি চলতি বছরের জানুয়ারির পরে কোনো ম্যাচেই হারেনি। এবারের সাফেও রুই বেন্তোর শিষ্যদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান-নেপালের মতো দলগুলো।

২০২২ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৯ ম্যাচ খেলে দশটিতেই জয় পেয়েছে কুয়েত। ৩ ড্রয়ের বিপক্ষে ৬ হার, ১৮ গোল হজমের বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ২৯ বার। অন্যদিকে এ সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে ১৫ ম্যাচ। এর মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ৫টিতে। আর ৭টিতে হার এবং ৩টিতে ড্র। এ সময়ে বাংলাদেশ ১৯ গোল হজমের বিপরীতে মাত্র ১৩টি গোল দিতে পেরেছে।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে (International match) বাংলাদেশের অভিষেকের পরে ১৯৭৩ সালে কুয়েতের বিপক্ষে দেখা হয়েছিল বাংলাদেশের। মালয়েশিয়ার মারদেকা কাপের সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশে। এরপরে সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। সিউল এশিয়ান গেমসের সেই ম্যাচেও বাংলাদেশ হেরেছিল ৪-০ গোলে। ফলে মুখোমুখি দেখায় এখন পর্যন্ত জয় নেই বাংলাদেশের।

তবে এগুলো পুরনো পরিসংখ্যান। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফর্মেন্সে ম্যাচটি নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়। কুয়েতের ধারাবাহিক পারফরমেন্সের পরেও তাদের কিছু দুর্বলতাও টের পাওয়া গেছে বেশকিছু ম্যাচে। গত দেড় বছরে মাল্টা-ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেই হারিয়েছে বেন্তোর দল।

সাফের প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষেও বেশ কয়েকবার ছন্দপতন ঘটেছে কুয়েতের রক্ষণভাগের। ভারতের বিপক্ষে তো ভাগ্যের জোরে হার এড়িয়েছে অতিথিরা। সেমিফাইনালে এই ম্যাচগুলোই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে টিম বাংলাদেশের।
প্রতিপক্ষ যেমনই হোক, আশা হারাচ্ছে না বাংলাদেশ। প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হলেও সেমিফাইনালকে উপভোগের ম্যাচ হিসেবে নিতে চান না বাংলাদেশ দলের কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। এই স্প্যানিশ কোচের লক্ষ্য এখন ফাইনাল। বাংলাদেশ-কুয়েত সেমিফাইনাল ম্যাচের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুক্রবার (৩০ জুন) সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা।

ক্যাবরেরার মতে, কুয়েত কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও তাদের বিপক্ষে হোমওয়ার্ক করেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি ম্যাচের আগেই প্রতিপক্ষ নিয়ে বিশ্লেষণ করি। আমরা জানি তারা শক্তিশালী দল। আমরা সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।’

সেমিফাইনাল বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল। সেটা পূরণ হয়ে যাওয়ায় কালকের ম্যাচে বাংলাদেশের অ্যাপ্রোচ বদলাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্যাবরেরা বলেন, ‘অবশ্যই সেমিফাইনাল আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল। সেটা পূরণ হওয়ায় আগামীকাল আমরা শুধুই ম্যাচ উপভোগ করতে নামব না। আমাদের লক্ষ্য এখন ফাইনাল নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *