বিকাল ৪:১২ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ছোট বেলা থেকেই কবিতা লিখি, তখন মনে হলো কবিতা যখন লিখতে পারি তাহলে নাটক ও সিনেমার গল্পও লিখতে পারবো’ :পূর্ণিমা রায়

 

বাংলাদেশের যশোরের মনিরামপুরের মেয়ে পূর্ণিমা রায় একাধারে নাট্যকার ও সিনেমার গল্পকার। তার লেখা  বেশ কিছু নাটক ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পর পূর্ণিমা রায় গল্পে ভারতের কলকাতায় প্রথম সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই মেধাবী চিত্রনাট্যকারের সাথে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘আপনার সংবাদ’ প্রতিবেদকের সাথে আলোচনা হয়।

১। সম্প্রতি আপনি কি কাজ নিয়ে ব্যস্ত?

উত্তর:সম্প্রতি আমি সিঙ্গেল নাটক নিয়ে বেশি কাজ করছি। আর পাশাপাশি lyrics এবং আরেকটা সিনেমা লেখারও চেষ্টা করছি।

২। বাংলা সংস্কৃতি নিয়ে আপনার ভাবনা?

উত্তর:বাংলার সংস্কৃতি প্রাচীন কাল থেকেই সমৃদ্ধ। কিন্তু বর্তমান জেনারেশন মানে আমরা, আমরা কিন্তু বাংলা সংস্কৃতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি। আর পালন করছি অন্য দেশের সংস্কৃতি। আকৃষ্ট হচ্ছি ইংরেজি, হিন্দি, তামিল সহ অন্য ভাষাভাষী সিনেমার প্রতি। যা বাংলা সংস্কৃতির কাল বলা যায়। তাই আমার ইচ্ছে, সকল সংস্কৃতি কর্মীদের সাথে একসাথে কাজ করে,ভালো কাজ করে, আমাদের বর্তমান জেনারেশনকে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করা।

৩। বড় তারকার ডেট যে পায় সে ততো বড় নির্মাতা হয় এমন কথা প্রচলিত। আপনি কি এই কথার সাথে একমত?

উত্তর:আমি আসলে এটার সাথে একমত হতে পারলাম না।‌ নতুনদেরও সুপারস্টার হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর বড় পরিচালক বা নির্মাতা হওয়ার জন্য বড় তারকার ডেট না আমি মনে করি সুন্দর একটা গল্প, সাবলীল অভিনয় আর একটু পরিশ্রম’ই একজনকে সফলতা এনে দিতে পারে। পরিশ্রম ছাড়া বড় তারকার ডেট পাওয়াও ফিকে।।

৪। এই অঙ্গনে আসলেন কিভাবে?
উত্তর:আমি যখন ক্লাস সিক্স এ পড়ি তখন থেকে কবিতা লিখি। আমার লেখা প্রায় ১২-১৫০০ কবিতা আছে। কবিতা লিখে শুধু ডায়েরি ভরে রাখতাম। হঠাৎ মনে মনে ভাবলাম কবিতা যখন লিখতে পারি চেষ্টা করলে নাটক,গল্প বা স্ক্রিপ্টও লিখতে পারব। তখন থেকে লেখার চেষ্টা করা আর আস্তে আস্তে গল্প,কবিতা,গান আর নাটক থেকে সিনেমাতে চলে আসলাম।

৫। আপনি চিত্রনাট্যকার হিসেবে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

উত্তর: আমি চিত্রনাট্যকার হিসাবে খুব‌ই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। নিজের গল্পে নিজে চিত্রনাট্য করি। অনেক ভালো লাগে তখন। একটার চিত্রনাট্য নিয়ে বসলে অন্য গল্পের থিম মাথায় আসে। আমার অবসর সময়ে স্যোশাল মিডিয়াতে সময় নষ্ট না করে আমি গল্পের চাষ করি। এবং আমি এতে খুব খুশি।। নতুন নতুন চরিত্রের সৃষ্টি করতে ভালো লাগে।

৬। দর্শকদের উদ্দেশ্য কিছু বলেন?

উত্তর: আসলে আমি বড় মাপের কোনো মানুষ না। আমি আর পাঁচ জনের মতো একজন সাধারণ মানুষ। তো আপনারা আমাকে নিজের বোন বা মেয়ে হিসেবে দেখে আমাকে আরও উৎসাহিত করবেন যেন ভালো কিছু লেখনির মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করতে পারি। আর আপনারা বেশি বেশি করে বাংলা নাটক দেখবেন, বাংলা সিনেমা দেখবেন আর বাংলা সংস্কৃতি সঙ্গে থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *