বিকাল ৪:১১ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের সিইপিজেডে ভয়াবহ আগুন:দুই কারখানা ক্ষতিগ্রস্থ,আশেপাশের ভবন ঝুঁকিতে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) ৫ নম্বর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের জিন হং মেডিকেল কারখানায়। এতে দুইটি কারখানা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, ভবনের ছাদ ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও কিছুটা বৃষ্টি নামায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তবু আগুনের তীব্রতা কমেনি। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২৫টি ইউনিট অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আগুন নেভানোর লক্ষ্যে কাজ করছে, তবে এখনো পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনের কারণে আশেপাশের অন্যান্য ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগুন লাগার কারণ ও পরিস্থিতি
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোতে সুতা ও কাপড়জাতীয় জিনিসপত্র থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়েছে। এছাড়া, ভবনের ৮ তলার উপরের অংশ ধসে পড়ার কারণে উদ্ধারকাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ধীরে ধীরে ভবনটির দুই দিক থেকে ধস শুরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও প্রভাব
সিইপিজেড কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক আশেক মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, আগুন লাগার সময় ওই কারখানায় প্রায় ১ হাজার ৫০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম চালু হওয়ায় শ্রমিকরা দ্রুত এবং নিরাপদে ভবন থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এই কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, যা একটি বড় সান্ত্বনার বিষয়।

তবে, এই আগুনের কারণে দুই কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে এবং এতে রফতানি খাতের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। চট্টগ্রাম অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সিইপিজেডে এই ধরণের দূর্ঘটনা দেশের রফতানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সিইপিজেডের অভ্যন্তরে থাকা পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আশপাশের ভবনগুলোকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছেন যাতে আগুন ছড়িয়ে না পড়ে।

এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়, শিল্প এলাকা বিশেষ করে যেখানে আগ্নেয় বস্তু ও জ্বলনশীল সামগ্রী থাকে, সেখানে অগ্নি নিরাপত্তার উন্নত ব্যবস্থা এবং দ্রুত সাড়া দেয়ার প্রক্রিয়া থাকা কতটা জরুরি। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সিইপিজেডের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম সিইপিজেড দেশের অর্থনীতির একটি অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এখানে উৎপাদিত পণ্য রফতানি মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ায়। তাই এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড কেবল দুটি কারখানার ক্ষতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক রফতানি খাত ও অর্থনীতির জন্যও হুমকি।

এই ঘটনার মাধ্যমে অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের জন্যও একটি সতর্কবার্তা যায় যে, ভবিষ্যতে শিল্প এলাকায় আগুন লাগার ঝুঁকি কমাতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রণালী গড়ে তোলা অপরিহার্য।

চট্টগ্রাম সিইপিজেডের কারখানায় ভয়াবহ আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ভবন ধসে পড়েছে এবং আশেপাশের ভবনগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনা গেলেও উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রমে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার চেষ্টা চলছে, কিন্তু এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা খুবই জরুরি।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *