
গাজীপুর প্রতিনিধি :
সারাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি পাঠাগার লুট, ভাঙচুর, হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এর সামনে এক প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বইপোকা পাঠাগারের সভাপতি মাধব চন্দ্র মন্ডলের সভাপতিত্বে বইপোকা পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শাজাহান শোভন, শুচি পাঠচক্র পাঠাগার, মনিরুল ইসলাম রাজিব, মায়ের আঁচল পাঠাগার, নাদিম মোড়ল, জয়েন্ট সেক্রেটারি উদীচী গাজীপুর জেলা সংসদ, সাগর দাস, সদস্য বইপোকা পাঠাগার, গোলাম মাওলা, ঊনিশে মার্চ পাঠাগার। এছাড়াও মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য ভাস্কর কুয়াশা বিন্দু, রোটার্যাক্ট ক্লাব অব গাজীপুর বনরূপার সভাপতি ইমন সাহা, ডুযেটের শিক্ষার্থী হাসান মেহেদী, কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী উত্তম চন্দ্র মন্ডল, গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী কাঁকন, মৃত্তিকা ও শান্ত্বনা।
বক্তারা বলেন যে, সারাদেশে মুক্ত চিন্তা চর্চাকেন্দ্র পাঠাগার আজ আক্রান্ত। বিশেষ একগোষ্ঠী নাস্তিকবাদের নাম করে পাঠাগারগুলোতে হামলা, লুট ও ভাংচুর করছে। তাদের মন মত বই রাখার চেষ্টা করছে যেটা কখনোই সম্ভব নয় বলে আমরা পাঠাগার সংগঠকরা মনে করি।
প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর পাঠাগার নিযে বলেছেন, “ধর্মের চর্চা চাই কি মন্দিরের বাইরেও করা চলে, দর্শনের চর্চা গুহায়, নীতির চর্চা ঘরে এবং বিজ্ঞানের চর্চা জাদুঘরে; কিন্তু সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি; ও-চর্চা মানুষে কারখানাতেও করতে পারে না; চিড়িয়াখানাতেও নয়। এইসব কথা যদি সত্য হয়, তাহলে আমাদের মানতেই হবে যে, সাহিত্যের মধ্যে আমাদের জাত মানুষ হবে। সেইজন্য আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে।” জাতিকে উন্নত জাতিতে রূপান্তরিত করতে প্রতিটি গ্রাম, পাড়া, মহল্লায় পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। সাহিত্যচর্চার অন্যতম কেন্দ্রেই আজ আক্রমণ যেটা মেনে নেয়া যায় না আমরা এর প্রতিকার চাই। গত কয়েকদিন আগে টাঙ্গাইলের অভয়ারণ্য পাঠাগার লুট করে নিয়ে যায় কিছু লোক যেটা বিচার না হয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়। আমরা এমনটা চাই না আমরা চাই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
একের পর এক মুক্ত চিন্তার ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষের ওপর হামলা হচ্ছে। আজকে ঢাকাতে দেশবরেণ্য ভাস্কর রাশার ওপর হামলা অন্যতম। বক্তারা ভাস্কর রাশার ওপর হামলাকারীরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন সমাপ্ত করেন।