
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
গাজীপুর মহানগরীর গুশুলিয়া মৌজায় সরকারি অধিগ্রহণ করা জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৫০টি পরিবার। জমির রেকর্ডে মূল মালিকদের নাম বহাল থাকায় তাদের কাছ থেকে জমি কিনে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও এখন উচ্ছেদের শঙ্কায় রয়েছেন পরিবারগুলো। ভিটেমাটি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন গুশুলিয়া মৌজার ৮ দশমিক ৮৯ একর জমি ১৯৬৫-৬৬ সালে এলএ কেস নম্বর ৩২/৬৫-৬৬-এর আওতায় তৎকালীন মোহাজেরদের পুনর্বাসনের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। ২০০৩ সালে জমিটি গেজেটভুক্ত হলেও সিএস, এসএ ও আরএস রেকর্ডে মূল মালিকদের নাম বহাল ছিল বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।
তাদের দাবি, রেকর্ডে মূল মালিকদের নাম থাকায় জমি কিনে নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করে বাড়িঘর নির্মাণ করেন তারা। সেখানে মসজিদ ও মাদ্রাসাও গড়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ড স্থাপনের পর থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দেয়।
প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও সমাধান না পেয়ে ভুক্তভোগীরা হাইকোর্টে রিট করেন। রিট পিটিশন নম্বর ৪৪৫/২০২২-এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৪ মার্চ আদালত চার সপ্তাহের রুল জারির পাশাপাশি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদ বা দখলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করতে অন্তর্বর্তীকালীন স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা এখানেই বড় হয়েছে। বাবা-দাদার কবরও এখানে। অন্য কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। উচ্ছেদ করা হলে পথে বসতে হবে।”
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন জানান, একটি পরিবার ছাড়া অন্যদের নামে জমির হালনাগাদ রেকর্ড বা নামজারি নেই। জমিটি সরকারি অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি হওয়ায় জেনেশুনে কেনার দায় ক্রেতাদেরও নিতে হবে। তবে মানবিক বিবেচনায় কয়েকটি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। উপযুক্ত খাসজমি পাওয়া গেলে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, ওই জমিতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় একটি বড় সিসমিক সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সময়মতো জমির রেকর্ড সংশোধন ও সরকারি তদারকি নিশ্চিত করা হলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিষয়টি পুনরায় যাচাই এবং মানবিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইনি অবস্থানটি আরও নিরপেক্ষ করুন
সংবাদটি আরও সংক্ষিপ্ত ও ঝরঝরে করুন
উচ্ছেদের ঝুঁকি ও দাবিগুলো স্পষ্ট করুন