
জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
কালেরকন্ঠ শুভসংঘ কালাই উপজেলা শাখার আয়োজনে শুরু হয়েছে ঘুড়ি উৎসব।মেঘমুক্ত সাদা আকাশে লাল,নীল, হলুদ, বেগুনী, সাদা-কালো রঙের বাহারী সব ঘুড়ি নিয়ে এই বিশাল আয়োজন করে শুভসংঘের বন্ধুরা।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় সন্ধা পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এই আয়োজনে উপজেলার বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন। এমন উৎসবের আয়োজনে এলাকার মানুষ আনন্দিত।
প্রবীন মানুষের অনেক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয় এই উৎসব।উৎসবের মাঝে হাজির হন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী।জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলাধীন আন্দারী মুক্তিযোদ্ধা টেকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে দিনভর চলে এই উৎসব। স্মার্ট ফোনের অপব্যাবহার রোধে এই আয়োজন সারাক্ষন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় না কাটিয়ে জীবনকে উপভোগ করতেই এই উৎসেবের আয়োজন মন্তব্য করেন শুভসংঘ কালাই উপজলা শাখার সভাপতি এম রাসেল আহমেদ। তিনি বলেন, বিজ্ঞানের প্রসারতা এবং আমাদের মনের সঙ্কীর্ণতা আমাদের নিত্যদিন দৈন্য করে তুলেছে মানসিকভাবে।
‘আমি খাবো, আমার পরিবার খাবে’–এই ভাবনার জারক রসে নিমজ্জিত আমরা। ফলে বাইরের উত্তাল বাঁধনহারা জগত থেকে নিজের ছেলে মেয়েদের আলাদা করে রাখছি নিত্যদিন। পড়ার চাপে ওঁদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ডাহুক ডাকা দুপুর। হারিয়ে গেছে বিকেল। হারিয়ে গেছে গোধূলির মলিন সূর্য। যে সময়টায় লাটাই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সুতো গুটিয়ে ঘুড়ি সহ ঘরে ফিরতো ঘুড়িয়াল কিশোর! আমরা সে দিনগুলো হারিয়ে ফেসছি দিন দিন। আমাদের প্রয়াস সুন্দর জীবন উপহার দিব নতুন প্রজন্মের মাঝে।
এসময় শিক্ষক আবু নাছের বলেন, ঘুড়ি কত ছেলেমেয়ের জীবনের একটা সুন্দর স্মৃতির পরিভাষা রচনা করেছে। কত আনন্দের জন্ম দিয়েছে। কত অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরিয়ে দিয়েছে। দেশে নবাবী আমলে ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন ছিল।আমরা ছোটবেলায় অনেক ঘুড়ি উড়াতাম।
সহসভাপতি রাব্বিউল হাসান জিন্নাহ বলেন, মেঘমুক্ত সাদা আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর মাতামাতি জেগে ওঠে এখন থেকেই।আমাদের জীবন উপভোগ করা উচিৎ।মানষিক প্রশান্তি পেতে এই ধরনের আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘ সাঃ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাঃ সম্পাদক রনি বাবু, সাংগঠনিক সস্পাদক মোর্শেদুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।