
বানিজ্য ডেস্ক রিপোর্ট :
দুই সপ্তাহের টানা দরপতনের পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাজার। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ সংশ্লিষ্ট অনিশ্চয়তার জেরে বাজারে এ পণ্যটির চাহিদা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী এলএনজির সর্বশেষ গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ১২ দশমিক ১০ ডলার, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ সেন্ট বেশি।
এটি মার্কিন এলএনজির রফতানি বৃদ্ধিতে বড় ভূমকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরবরাহে বিলম্ব, চাহিদায় মিশ্রতা রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে সুনামি সতর্কতা এবং কানাডার এলএনজি প্রকল্পে অগ্রগতির ধীর গতি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে চীনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখনও গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম এবং মজুদ বেশি, ফলে বাজারে বড় ধরনের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্ববাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ইউরোপের বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নর্থওয়েস্ট ইউরোপে এমএমবিটিইউপ্রতি এলএনজির গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ ডলারে, যা ডাচ টিটিএফ ফিউচারের তুলনায় কিছুটা কম।
এদিকে আর্গাস ও স্পার্ক কমোডিটিজ জানায়, বাজারমূল্য রয়েছে যথাক্রমে ১১ দশমিক ৩৯ ও ১১ দশমিক ৩৭ ডলারে। মিসরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরমে বেড়ে যাওয়া বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে দেশটি অতিরিক্ত এলএনজি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডস থেকে একটি চালান পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আর্গাসের জ্বালানি বিশ্লেষক মার্টিন সিনিয়র। পরিবহন ব্যয়ে বিপরীত চিত্র এলএনজি পরিবহনেও দেখা যাচ্ছে ভিন্ন প্রবণতা। আটলান্টিক রুটে প্রতিদিনের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫০০ ডলারে, অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় রুটে পরিবহন ব্যয় পাঁচ সপ্তাহ ধরে কমতে কমতে এখন নেমেছে ৩৩ হাজার ৫০০ ডলারে। ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ঘাটতি ও ভূরাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও, মজুদ যথেষ্ট থাকায় এবং বেশ কিছু অঞ্চলে চাহিদা কম থাকায় বাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি এখনই প্রত্যাশিত নয়। আগামী সপ্তাহগুলোতে এলএনজির বাজার স্থিতিশীল থেকে সীমিত ওঠানামার মধ্যেই থাকবে।