দুপুর ২:৪২ মঙ্গলবার ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলঝেইমার রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার: মাহমুদা আফরিন

আলঝেইমার (Alzheimer’s Disease) হলো এক ধরনের ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ রোগ), যা ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, বিচারবুদ্ধি এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা কমতে থাকে।

🔺আলঝেইমারের প্রধান লক্ষণগুলো:

• সাম্প্রতিক ঘটনা বা কথা মনে রাখতে না পারা
•একই প্রশ্ন বারবার করা
•জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা বা ভুল জায়গায় রাখা
•কথাবার্তায় অসংলগ্নতা
•পরিচিত স্থান বা মানুষ চিনতে সমস্যা
•সিদ্ধান্ত নেওয়া বা সমস্যার সমাধানে অসুবিধা
•আচরণে পরিবর্তন, যেমন বিরক্তি, বিভ্রান্তি, সন্দেহপ্রবণতা

🔺কারণ:

•মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক প্রোটিন (amyloid plaques ও tau tangles) জমা হওয়া।
•বয়স (৬৫ বছরের বেশি হলে ঝুঁকি বেশি)
•পারিবারিক ইতিহাস (জেনেটিক ফ্যাক্টর)
•উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি দীর্ঘস্থায়ী রোগ
•শারীরিক ও মানসিক কার্যক্রমের অভাব

✅ প্রতিরোধ বা ঝুঁকি কমানোর উপায়:-

•নিয়মিত ব্যায়াম করা
•স্বাস্থ্যকর খাদ্য (মেডিটারেনিয়ান বা ড্যাশ ডায়েট) গ্রহণ,
•ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়ানো,
•মানসিক অনুশীলন (পাজল, বই পড়া, নতুন কিছু শেখা),
•সামাজিকভাবে সক্রিয় থাকা
•উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা

🍏🥗খাদ্যাভ্যাস:-

আলঝেইমার প্রতিরোধ ও মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার জন্য খাদ্যাভ্যাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো –
👉 MIND diet (Mediterranean + DASH diet), যা মস্তিষ্কবান্ধব খাবারে জোর দেয়।

✅ খাদ্যাভ্যাসের মূলনীতি:

1. প্রতিদিন বেশি শাকসবজি – বিশেষত সবুজ শাক (পালং, ব্রকোলি, কলমি শাক, ঢেঁড়স ইত্যাদি)।

2. ফল – বেরি জাতীয় ফল (স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, আঙুর) সবচেয়ে উপকারী; এছাড়া আপেল, কমলা, কলা খাওয়া যেতে পারে।

3. প্রোটিন উৎস – মাছ (ইলিশ, সার্ডিন, রুই, স্যামন), মুরগি, ডাল, ছোলা, মসুর ডাল।

4. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট – অলিভ অয়েল, ফ্ল্যাক্সসিড, আখরোট, কাজু, আমন্ড, সূর্যমুখী বীজ।

5. শস্যজাতীয় খাবার – লাল চাল, ব্রাউন রাইস, ওটস, গমের রুটি।

6. দুগ্ধজাত খাবার – দুধ/দই পরিমিত পরিমাণে (কম ফ্যাট)।

7. মসলা ও হার্বস – হলুদ, আদা, রসুন, দারুচিনি মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায়।

8. যা কমাতে হবে – লাল মাংস, ভাজা খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত লবণ, সফট ড্রিঙ্ক, মিষ্টি।

👉 এই ধরণের খাবার মস্তিষ্ককে শক্তিশালী রাখে, প্রদাহ কমায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং আলঝেইমারের ঝুঁকি হ্রাস করে।

🚶‍♂️ জীবনধারা:-

👉প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম

👉নিয়মিত ধ্যান/প্রাণায়াম/নিশ্বাসের অনুশীলন

👉পর্যাপ্ত ঘুম (৭–৮ ঘণ্টা)

👉নতুন কিছু শেখার চেষ্টা (ভাষা, গান, গেম, বই পড়া, পাজল সমাধান) → মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে

👉সামাজিকভাবে যুক্ত থাকা (আলাপ, বন্ধু-আড্ডা, ক্লাব/কমিউনিটি কাজ)

👉ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়ানো।

মাহমুদা আফরিন
পুষ্টিবিদ
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি.
নোয়াখালী ও শ্যামলী শাখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *