
ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীতে দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের তিনদিনের ফেনী জেলা ইজতেমা শুক্রবার বাদ জুমা আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
জুমার পরে দুপুর ২টার দিকে ইজতেমায় হেদায়েতি কথা ও আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইলের আহলে শুরার সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ সাহেব। এক ঘন্টার আখেরী মোনাজাতে হাজার হাজার মানুষের আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ইজতেমা ময়দান। অনেকে নিজ নিজ গুনাহ মাফের আশায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। এদিকে ইজতেমায় গত দুইদিনের তুলনায় শেষদিন তাবলিগ জামায়াতের মুসল্লিদের পাশাপাশি সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশি। শেষ দিন বেলা বাড়ার সাথে সাথে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ফজরের পর থেকে কয়েক দফায় দেশের বিভিন্ন আলেমগণ হেদায়তি বয়ান পেশ করেন।
এ বছর ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে রামপুর সাবেক লাতুমিয়া ব্রিক ফিল্ড মাঠে এ ইজতেমার আয়োজন করা হয়। গত ৪ বছর যাবত ফেনীতে জেলা ইজতেমার আয়োজন হয়ে আসছে।
এদিকে ইজতেমার আয়োজকদের মধ্যে একজন জানান, গত ৪ বছর যাবত তারা ফেনীতে জেলাভিত্তিক ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। তারা বিশ্ব ইজতেমার পূর্ব প্রস্তুতি স্বরুপ জেলা ইজতেমা করে থাকেন। মানুষকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে মেহনত করার জন্য দাওয়াতী কার্যক্রমগুলো তারা করে থাকেন। তিনি আরো জানান, এবারের ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন জেলা সহ ইন্দোনেশিয়া থেকেও তাবলিগ জামায়াতের মেহমানরা অংশগ্রহণ করেন। তারা ইজতেমায় আলোচনা রাখেন এবং আল্লাহর রাস্তায় বের হবার দাওয়াতী কার্যক্রমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন।
আজ ফেনী জেলা ইজতেমার শেষ দিনে হেদায়তি বয়ানে কাকরাইলের আহলে শুরার সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন,আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রত্যেক মানুষকে ঈমানী মেহনত করে যেতে হবে। ঈমানী মেহনতের কাজে আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে। মানুষ যখন আল্লাহর রাস্তায় ঈমানী মেহনতে বের হয় তখন মানুষের মধ্যে ন্যায়পরায়নতা আসবে,আল্লাহ পাক নিজে মানুষকে ইজ্জত এবং সম্মান বৃদ্ধি করে দিবেন। তিনি বলেন,আমরা আল্লাহর রাস্তায় বের হব আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য।আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা মানে আল্লাহকে পাওয়া। সে জন্য আমাদেরকে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে ঈমানী মেহনত করে যেতে হবে। তখনই আল্লাহ পাক আমাকে আপনাকে ইজ্জত-সম্মান ওয়ালা ব্যক্তি হিসেবে কবুল করবেন। ঈমানী জিন্দেগীর মধ্যে বরকত দান করবেন। আমরা আল্লাহ পাকের হুকুম এবং নবী রাসূলের আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে পারি তাহলে দুনিয়াতে শান্তি আখেরাতে মুক্তি মিলবে। পরকালীন জীবন আমার-আপনার জন্য সুন্দর হবে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, যে কোন মুমিন নারী-পুরুষ ইমানের সাথে নেক আমল করবে আমি আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়াতে পবিত্র জীবন দান করবো। বান্দার ইবাদতের দ্বারা আল্লাহ তার দুনিয়াকেও সাজিয়ে দিবেন,আখেরাতকে সাজিয়ে দিবেন।