বিকাল ৪:০৫ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাজাহান চৌধুরীর প্রশাসন নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য নব্য স্বৈরাচারের শঙ্কায় বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্যের তীব্র প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার :

চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক এক সমাবেশে দেওয়া প্রশাসন নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে; প্রশাসন তাদের নির্দেশে কাজ করবে, গ্রেফতার ও মামলা করবে এবং পুলিশের কর্মকাণ্ড তাদের পেছনে পিছু হাটবে। এমন একটি বক্তব্য নিয়ে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম বুধবার (২৬ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য প্রশাসনকে সম্পূর্ণরূপে দলীয়করণের প্রমাণ এবং এটি গণতান্ত্রিক, নিরপেক্ষ প্রশাসন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে মারাত্মক হুমকি। দেশের স্বাধীনতার জন্য লাখ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে এই জাতীয় বক্তব্য নব্য স্বৈরাচারী শাসনের ইঙ্গিত বহন করে, যা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।

তারা আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা বিরাট একটা বিপজ্জনক সংকেত। সভ্যতা, শিষ্টাচার ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে গড়ে উঠা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উজ্জীবিত জনগণের জন্য এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচিত হবে সকল রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা। তদবিরমূলক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে সব দলকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিতর্কিত বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশের রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজসহ সচেতন জনগণ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় আরও বেশি সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। কারণ একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন, সুশাসন ও গণতন্ত্রের বিকাশ অসম্ভব। প্রশাসন যখন কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনস্থ হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ মানুষের প্রতি সেবা প্রদান ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অবিচার ও পক্ষপাতিত্বের জন্ম হয়, যা দেশের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য মারাত্মক হুমকি।

এবারের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা কতটা জরুরি এবং এটা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য অপরিহার্য। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন, জনসেবা ও সুশাসন সবই সংকটে পড়বে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *