দুপুর ১:৫৮ বুধবার ১৯শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ ৫ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আপনার সংবাদ

মামলা জটিলতায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার জেলে নৌকা

চাঁদপুর প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মার্চ-এপ্রিল দুইমাস জাটকা রক্ষায় জেলেদের কাছ থেকে মাছ ধরার ৬০টি নৌকা জব্দ করেছে টাস্কফোর্স। এসব জেলে নৌকার আনুমানিক বাজার মূল্য কোটি টাকা। মামলাসহ বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে জেলেরা তাদের নৌকা নিতে পারেন। সোমবার (৬ মে) শহরের মাদরাসা রোড, লঞ্চঘাটের দুই পাশে অভিযানে জব্দকৃত নৌকাগুলো অযত্নে অবহেলায় পড়ে রয়েছে
মৎস্য বিভাগ বলছে, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস চাঁদপুরের অভয়াশ্রম এলাকায় জেলা টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অবৈধভাবে নদীতে মাছ ধরতে আসা জেলেদের হাতেনাতে আটক ও তাদের হেফাজতে থাকা জেলে নৌকা জব্দ করা হয়। দুই মাসে আটক তিন শতাধিক জেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করা হয়। কিন্তু জেলেদের সঙ্গে থাকা জব্দ জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট এবং জেলে নৌকা মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশ।

চাঁদপুর শহরের মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলে রমজান আলী, ইছহাক ও মহসীন মিয়া জানান, আমরা গোপনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নেমে মাছ ধরেছি। যে কারণে দুই মাস জেল খাটতে হয়েছে। জেল থেকে বের হয়ে দেখি আমাদের নৌকাগুলো নষ্ট হয়ে আছে। আদালত যদি কম সময়ের মধ্যে আমাদেরকে নৌকাগুলো নেয়ার নির্দেশ দেয় তাহলে নিতে পারব। বর্তমানে কিছু নৌকা ভেঙে চলার অযোগ্য হয়ে আছে।
চাঁদপুর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, জাটকা রক্ষার এবারের অভিযান খুবই কঠোর এবং সফল হয়েছে। অভিযানে অনেক জেলে, জাল, জাটাকা ও নৌকা জব্দ হয়েছে। এর মধ্যে টাস্কফোর্সের অভিযানে এবং নৌ-পুলিশের অভিযানেও মাছ ধরার নৌকা জব্দ হয়। সব বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ হয়েছে। জব্দ নৌকা আদালতের নির্দেশ মোতাবেক পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, আমাদের গত দুই মাসের মৎস্য অভিযানে যেসব নৌকা জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী আইনানুগ নিষ্পত্তির জন্য কার্যক্রম চলমান আছে। এর মধ্যে আদালতের নির্দেশক্রমে কিছু নৌকা মালিক ফেরত পেয়েছে। বাকিগুলো সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হোসেন বলেন, এ বছর দুই মাসের অভিযানে জেলা টাস্কফোর্স ৬০টি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করেন। এসব নৌকা বর্তমানে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। জেলা টাস্কফোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব নৌকা নিলামে বিক্রি করবেন। আর নৌ-পুলিশের হেফাজতে থাকা নৌকা আদালতের নির্দেশের পর মালিক নিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *