দুপুর ২:১৬ সোমবার ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে কমলো সোনার দাম

অনলাইন ডেস্ক :

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আরও কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ জুন) স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে শুক্রবার সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছায়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় সোনার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। একই দিনে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক বলেছেন, সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন হলে ফেড সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
মে মাসে টানা তৃতীয় মাসের মতো যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে দেশটির অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে নতুন গতি ফিরে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকটজনিত মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যেও ফেডের জন্য সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা ১৯তম মাসের মতো দেশটির স্বর্ণের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে চীনের স্বর্ণের মজুত ৭৪ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ফাইন ট্রয় আউন্সে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতার কারণে গত সপ্তাহে ভারতে সোনার চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। একই সময়ে চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়ামও কিছুটা কমেছে। এছাড়া ২ জুন সমাপ্ত সপ্তাহে সোনার ফটকাবাজরা তাদের নেট লং পজিশন ১৪ হাজার ৪০৯টি কন্ট্রাক্ট বাড়িয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪১-এ উন্নীত করেছে।
বিশ্ববাজারে মূল্যহ্রাসের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমলে সাধারণত দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে শিগগিরই দেশের বাজারে সোনার দাম আরও সমন্বয় করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন বাজুস সর্বশেষ সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করে। সে সময় প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *