সকাল ৮:১৪ মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেরত পাঠানো হলো মিয়ানমারের বিজিপিসহ ৩৩০ জনকে

 

কক্সবাজার প্রতিনিধি : সশস্ত্র বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশ আশ্রয় নেওয়া সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপিসহ বিভিন্ন সংস্থার ৩৩০ জনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পালিয়ে আসার ১২ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের ইনানীতে নৌবাহিনীর জেটিঘাট থেকে তাদের মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বিজিপির কর্নেল মায়ো থুরা নাউংয়ের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল বিজিবির নিকট থেকে ৩৩০ মায়ানমার নাগরিককে গ্রহণ করেন।

এরআগে ভোর ৫টা থেকে নাক্ষ্যংছড়ির ধুমধুম এবং টেকনাফের হ্নীলার উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্থায়ী আশ্রয় ক্যাম্প থেকে ১২টি বাসে করে তাদের ইনানীতে আনা হয়। তাদের বহন করা প্রতিটি গাড়ির সামনে পেছনে দুটি বিজিবির গাড়ি পাহারা দেয়। গাড়ি থেকে নামানোর সময়ও বিজিবির সদস্যরা ইনানীতে স্থাপিত তাবুতে নিয়ে যান। হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর আগে থেকেই সীমান্ত এলাকা এবং ইনানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিয়ানমারের পালিয়ে আসা ৩৩০ সীমান্তরক্ষীকে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম উচ্চবিদ্যালয় আস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ভোর ৫টা থেকে ১২টি বাসে করে উখিয়ার ইনানী উপকূলের নৌবাহিনীর জেটি ঘাটে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ইনানীতে পৌঁছলে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত সভা হয়। এরপরে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করেন বিজিবি মহাপরিচালক।

ইনানী জেটিঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘কর্ণফুলি’ ও ‘বার আউলিয়া’র মাধ্যমে গভীর সাগরে অবস্থান করা মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজে পাঠানো হয় তাদের।

বিজিবির তথ্য মতে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকের মধ্যে ৩০২ বিজিপি সদস্য, চারজন বিজিপি পরিবারের সদস্য, দুইজন সেনা সদস্য, ১৮ জন ইমিগ্রেশন সদস্য এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক। আশ্রয় নেওয়াদের মধ্যে বর্তমানে ৯ জন অসুস্থ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চারজন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মায়ানমার নাগরিকদের হস্তান্তর কার্যক্রম শেষে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও সেদেশের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের অভ্যন্তরীণ এই সংঘাতের প্রভাব আমাদের সীমান্তেও পড়েছে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের ৩৩০ নাগরিক বিজিবির কাছে সশস্ত্র আত্মসমপর্ণ করে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ধৈর্য ধারণ করে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রেখে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সীমান্তে বিজিবির টহল ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে বিজিবি সীমান্তের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি যাই হোক, সীমান্ত দিয়ে আর একজন মিয়ানমার নাগরিককে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *