সকাল ১০:৫৪ বুধবার ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন

স্টাফ রিপোর্টার :

গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং তার সুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, পরিবারের সদস্য সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং ছোট ভাই শামীম এসকান্দার প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। প্রায় ৩০ মিনিট হাসপাতালে অবস্থানকালে প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ এবং মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখার জন্য উৎসাহ দেন।

চিকিৎসক দল প্রধান উপদেষ্টাকে বেগম খালেদার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে বিস্তারিত অবহিত করেন। তারা জানান, বেগম খালেদার চিকিৎসা চলছে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই ও জনস হপকিন্স, যুক্তরাজ্য এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন। এই আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সমন্বয় তার সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও, প্রধান উপদেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে বেগম খালেদার চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি জনগণকে দেশপ্রেমিকতার সঙ্গে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এই উদ্যোগ সরকারের স্বচ্ছতা ও মানবিকতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক সংকটের সময় ঐক্যবদ্ধ থাকার একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা দেশের রাজনৈতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলেছে। একটি প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার সুস্থতা জাতীয় সংহতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের এই হাসপাতালে পরিদর্শন কেবলমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত খোঁজখবর নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং রাজনৈতিক সহমর্মিতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ এই সময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দোয়া ও সমর্থন প্রদান করলে তা জাতীয় ঐক্যের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক চিকিৎসকদের সহায়তায় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় ভবিষ্যতে রোগমুক্তি সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে। এতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আশা ও আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *