বিকাল ৫:৫৮ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী যুবককে গুলি করে হত্যা

ডেস্ক  রিপোর্ট :
দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি-স্টেট প্রদেশের বুসাবেলোতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া তিনটি গুলি রিগানের মাথায় ও তিনটি গুলি শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৮টার দিকে বুসাবেলোতে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছে নিহত নিহতের ছোট ভাই ফাহিম মাহমুদ। নিহতের নাম—রিগান ইসলাম (৩৫)। তিনি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শ্রীনদ্দি গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে নিহতের বাড়িতে দেখা যায়, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় বাবা-মা। বিয়ের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন রিগানের স্ত্রী সাথী আক্তার। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড় ছিলেন রিগান। রোহান নামে তাঁর তিন বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। এখন রিগানের মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

রিগানের ছোট ভাই ফাহিম মাহমুদ বলেন, ‘পরিবারের বড় ছেলে হওয়ায় জীবিকার তাগিদে প্রায় ১৫ বছর আগে আফ্রিকায় পাড়ি জমান বড় ভাই। সেখানে নিজের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। সবশেষ ২০২১ সালে দেশে আসার পর প্রায় ৫ মাস ছুটি কাটিয়ে পুনরায় আফ্রিকা চলে যান। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে গাড়িতে করে দোকানের জন্য মালামাল নিয়ে দোকানের সামনে আসেন। এ সময় গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে আগে থেকেই ওঁত পেতে সন্ত্রাসীরা রিগান ভাইকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছয়টা গুলি লাগে। আর ঘটনাস্থলেই মারা যায় ভাইয়া।’

নিহতের স্বজন মো. শিপন বলেন, ‘সোমবার রাত ১১টার দিকে রিগানের চাচা মোবাইলে রিগানের মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের জানায়। রিগানের চাচা, ফুপাতো ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের অনেকেই আফ্রিকায় থাকেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, আগামী দুই মাস পর দেশে আসার কথা ছিল রিগানের। দেশে আসার পর ছোট ভাই ফাহিমকেও আফ্রিকা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড সবকিছু শেষ করে দিল।’

এ বিষয়ে বাটইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে পরিবারটির খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। আমরা পরিবারটির সহযোগিতায় তাদের পাশে আছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *