বিকাল ৫:৫৩ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলেদের দু’ পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত ২,আহত ৪

ডেস্ক রিপোর্ট :
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীর সন্দ্বীপ চ্যানেলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে আবদুর রহমান ও রাজু নামে দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। এ সময় জিল্লুর রহমান, নূর আলম মিয়া, ইসমাইল ও নুর হোসেন নামে আরও চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়। জুয়েল নামে একজন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের সুন্দ্বিপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুর রহমান ও রাজু। তাদের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়। এরআগে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাসানচর সংলগ্ন ঠেঙ্গারচর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, সুবর্ণচর উপজেলার মাইন উদ্দিন মাঝি ও অলি মাঝি মেঘনা নদীর সন্দীপ ও ঠেঙ্গারচর অংশে দীর্ঘ দিন ধরে মাছ ধরে আসছে। কিছু দিন আগ থেকে মেঘনা নদীর মাছ ধরার ওই খোপ দখলের চেষ্টা চালায় সুবর্ণচরের কেফায়েত মেম্বার। বুধবার সন্ধ্যায় কেফায়েত মেম্বারের লোকজন ঠেঙ্গারচর এলাকার খোপ দখল করতে গিয়ে জেলেদের জাল কেটে দেয়। খবর পেয়ে দুটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে সেখানে যায় মাইন উদ্দিন ও অলি মাঝির লোকজন। এসময় তাদের উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে মাইন উদ্দিন ও অলি গ্রুপের দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ভাসানচর ও সন্দীপ কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছলে উভয় পক্ষ পালিয়ে যায়। পরে আহতদের মধ্যে দুইজনকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ঘটনার পর থেকে পাঁচ জেলে নিখোঁজ হয়।

পরে জানা যায়, তাদের মধ্যে আবদুর রহমান, রাজু, ইসমাইল ও নুর হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অন্য জেলেরা উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী সন্দ্বিপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে আবদুর রহমান ও রাজু মারা যায়। অপর দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানতে চাইলে সন্দ্বিপ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা গেছে। অপর দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মৃত দুই জন ও আহত দুইজনসহ চারজনের বাড়িই নোয়াখালীর সুবর্ণচর।
হাতিয়া কোস্টগার্ডের কমান্ডার শফিক জানান, ঘটনার বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তবে হাতিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিসান আহমেদ বলেন, সন্দ্বিপ চ্যানেলে মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে সন্দ্বিপ কোস্টগার্ড মেঘনায় অভিযান চালায়। ওই সময় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে কোস্টগার্ড গুলি করলে কয়েকজন জেলে আহত হয়। এদের মধ্যে দুইজন মারা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *