সন্ধ্যা ৬:২৫ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে আলুর দাম বেড়েছে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি :

আলু উৎপাদনের দেশের বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাটে হলেও হটাৎ করে খুচরা বাজারে আলুর দাম উর্দ্ধগতি। দামের উর্দ্ধগতির সু-নিদিষ্ট কারণ বলতে পারছেনা হিমাগার সংশ্লিষ্ঠরা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলুর সংকট নেই ,পর্যাপ্ত আলুর মজুদ আছে । অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করায় বাজার উর্দ্ধমুখী। কেউ যদি মজুদ রেখে আলুর সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হুশিয়ারী সংশ্লিষ্ঠদের।

আলু উৎপাদনের দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাট। এখানকার কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চাহিদা মিটিয়ে ১৯ টি হিমাগারে আলু আলু সংরক্ষণ করেন। কিছু দিন আগে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিলো ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। বর্তমানে জাত ভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা নাগালের বাইরে গিয়েছে। অন্য দিকে হিমাগার সংশ্লিষ্ঠরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন আলুর সংকট নেই পর্যাপ্ত আলুর মজুদ আছে। মূলত খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করায় বাজার উর্দ্ধমুখী হচ্ছে। কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং এর দাবি জানান স্থানীয় বক্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার আলু উৎপাদন হয়েছে ৯ লক্ষ ২৩ হাজার ২ শত মেট্রিক টন। হিমাগারে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার মেট্রিকটন মজুদের মধ্যে ১৭ শতাংশ আলু হিমাগার থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশে।

বটতলী থেকে বাজার করতে আসা আবু বক্কর নামে একজন ক্রেতা জানান, বাজারে আলুর দাম অনেক বেশি। আমি একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।আমার পক্ষে ৬০ টাকা কেজিতে আলু কিনে খাওয়া অসম্ভব।

নতুন হাটে বাজার করতে আসা আইরিন সুলতানা সুমা বলেন , আমার স্বামী রিক্সা চালক।রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন মতে আমার সংসার চলে। আলুর বাজার বেশি হওয়াতে খুব সমস্যায় পড়েছি।সরকারের কাছে দাবি জানায় বাজার যেন সহনশীল পর্যায়ে থাকে।এবং বাজার নিয়মিত মনিটরিং এর মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানান তিনি।

জেলা কৃষি বিপনন কর্মকর্তা রতন কুমার রায় বলেন বাজারে আলুর কোন সংকট নেই। কোনো মজুদদার যদি আলু মজুদ করে সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরূদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষন অফিসার এনামুল হক বলেন, আলুর সংকট নেই, কয়েকটি সংস্থার সমন্বেয়ে বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখার কাজ করা হচ্ছে ।আলুর বাজার উর্দ্ধমুখী ঠেকাতে সংশ্লিষ্ঠদের কঠোর মনিটরিং করে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *