সন্ধ্যা ৬:২৫ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাতকে ইউএনও’র দাপটে হতাশ বালু-পাথর সিন্ডিকেট

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি পরিবেশ রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। তার এই আপসহীন অভিযানে হতাশ হয়ে পড়েছে বালু-পাথর খেকো চক্র, আর সাধারণ মানুষের মাঝে জেগেছে আশার আলো।

ছাতকের সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীসহ সংরক্ষিত বনভূমি থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। ড্রেজার, বাল্কহেড ও স্টিলবডি নৌকার মাধ্যমে নির্বিচারে চলছিল পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব। স্থানীয়রা জানান, এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে চাপে পড়ে চুপ হয়ে যেতে হতো। তবে ইউএনও তরিকুল ইসলামের দৃঢ় পদক্ষেপে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। তার নিয়মিত অভিযানে অবৈধ ব্যবসায়ীরা এখন আতঙ্কে। নদী ও পাহাড় এলাকায় ড্রেজিং কমে এসেছে, জনজীবনে ফিরেছে স্বস্তি।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইউএনও তরিকুল ২৩২টি মামলা পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর অধীনে ১৫টি মামলায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও ৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোটি টাকা মূল্যের ড্রেজার, বাল্কহেড ও নৌকা জব্দ করে রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণেও তিনি সমান তৎপর। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর অধীনে ৬৪টি মামলায় ৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও তরিকুল ইসলাম বলেন, “অ-অনুমোদিত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়রা মনে করেন, ইউএনও’র এই ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ছাতক আবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য পরিচিত হবে। তার সাহসী পদক্ষেপে অপরাধীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, আর সাধারণ মানুষের মনে জেগেছে ভরসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *