সন্ধ্যা ৬:২৬ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালাইয়ে পাকা সড়কে হাঁটু পানি ভোগান্তিতে পথচারীসহ শিক্ষার্থী

কালাই উপজেলা প্রতিনিধি :

কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের আওতাধীন হাতিয়র তিন রাস্তার মোড়ে কামিল মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ও পয়ঃনিষ্কাশন নালার অবস্থা নাজুক।

পাকা রাস্তার দুই পাশে বসতবাড়ীগুলো উচুঁ স্থানে নির্মাণ হওয়ায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। পাকা সড়কে জমে থাকে একহাঁটু পানি। আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢুকে পড়ে পানি। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাতিয়র কামিল মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শতশত শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও পথচারীরা।

তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এসব সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। হাতিয়র কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি কামিল মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের লোকজনদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি।

দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। বসতবাড়ী থেকে রাস্তা নিচু হওয়ায় সব সময় এ রাস্তায় পানি জমে থাকে। তবে বর্ষার সময় বেশি। কখনও কখনও হাঁটু পানিতেও যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের।

এ সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, ১৯২৮ সালে হাতিয়র কামিল মাদ্রাসা ও ১৯৭২ সালে হাতিয়র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়ে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। এর পাশাপাশি হাতিয়র তিনমাথা মোড়ে গড়ে ওঠেছে একটি বাজার।

বাজারে রয়েছে স্থায়ী শতাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান। রয়েছে বড় বড় রাইচ মিল ও ধান শুকানোর চাতাল। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন যাতায়াত করে দুই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। এছাড়াও বাজারে যাতায়াত করে আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তায় যাতায়াত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

হাতিয়র বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এখানকার মিল-চাতালের উৎপাদিত চাল এবং কৃষকদের উৎপাদিত ধান ও আলু প্রতিদিন ১০-১২টি পণ্যবাহী ট্রাক লোর্ড করে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হয়। তবে সড়ক ও ড্রেনেজ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ভেতরও পানি উঠে যায়। পানি জমে থাকায় অনেকাংশ পাকা সড়কের পিচের ঢালাই উঠে গেছে। গর্তে ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ চরমে ওঠে। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

স্থানীয় আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, এ সমস্যা একদিনের নয়, চাইলেই সমাধান করা যাবে। তবে এ বিষয়ে আগামী উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হবে। আগে ড্রেন তারপর রাস্তার ব্যবস্থা।

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি বলেন, দুই পাশে উঁচু করে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় রাস্তা নিচু হয়েছে। যে কারণে আশপাশ থেকে বৃষ্টির পানি এখানে ঢোকে। রাস্তার উন্নয়নসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *