
স্পোর্টস ডেস্ক :
একবার নয় দুবার নয়, সাফে টানা পাঁচবার সেমিফাইনালের নাগাল পায়নি বাংলাদেশ। সবশেষ দুবার তো দুয়ার থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। এবারও বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বড় স্বপ্ন নিয়ে গেছে। ভুটানের বিপক্ষে সহজ সমীকরণের ম্যাচে যেখানে ন্যূনতম এক পয়েন্ট হলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত, সেখানে শুরুটা হয়েছে ধাক্কা খেয়ে। তারপর অবশ্য আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে দেননি জামাল ভূঁইয়ারা। প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ২০০৯ সালের পর বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আমরাও যে পারি- এই স্লোগানে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সফল দলের তালিকায়।
অন্যান্যবার পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা পরিস্থিতিতে যেখানে ভাগ্যের কাছে হার মানতে হতো, সেই জায়গায় মোরসালিন-রাকিবরা এবার পণ করেই মাঠে নেমেছিলেন। হতে দেননি ২০১৬ সালের সেই কালো দিনের পুনরাবৃত্তি। সেই দিনটি যে শুধুই দুর্ঘটনা ছিল তা পরবর্তীতে বার কয়েক জিতেই প্রমাণ হয়েছে। বেঙ্গালুরুতেও সেই ধারাবাহিকতা রেখে দীপ্তিমান লাল-সবুজ সেনানিরা।
লেবানন ম্যাচে ৮০ মিনিট পর্যন্ত চোখে চোখ রেখে খেলেও শেষের ভুলে ম্যাচ হারতে হয়েছে। এরপর শুধুই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। মালদ্বীপের পর এবার দারুণ খেলে এলো ভুটান বধ!
যদিও রাতের খেলাতে ভুটান শুরুর দিকে বড় ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। তিশেল থ্রিম নামগিল বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোকে পরাস্ত করে দলকে লিড এনে দিয়েছিলেন। গোল খেয়ে বাংলাদেশ হতোদ্যম হয়নি। সমীকরণ বলছিল এক গোলে হারলেও সেমিতে যাবে দল। কিন্তু ওই যে লক্ষ্য ছিল পূর্ণ তিন পয়েন্ট। তাই ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দিতে শেখ মোরসালিনও দেখালেন বুলেট গতির শট বাংলাদেশের খেলোয়াড়রাও নিতে জানেন।
শুরুতে হাভিয়ের কাবরেরা মোরসালিনকে একাদশকে রেখে চমক দেখান। মালদ্বীপ ম্যাচে গোল করে ততক্ষণে বসুন্ধরা কিংসের মিডফিল্ডার নিজের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছেন। মোরসালিনের পর রাকিবের চেষ্টায় আত্মঘাতী গোলে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। বিরতিতে যাওয়ার আগে রাকিব প্রায় বাইলাইনের কাছাকাছি থেকে দারুণ এক গোলে দলকে এনে দেন তিন গোলের লিড। বলা যায় ভুটানকে শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে বাংলাদেশ।
বাকি সময়টুকুতে অবশ্য কোনও দলই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। বাংলাদেশ শুধু রক্ষণ ঠিকঠাক রেখে তাদের কাজটি সমাপ্ত করেছে হাসি নিয়ে।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াসহ অন্যরা খুব করে চেয়েছিলেন ২০০৯ সালের পর নকআউট পর্বে পৌঁছে আনন্দ-উৎসবে মাততে। এছাড়া দেশবাসীকে আনন্দে ভাসাতে আগাম ঈদ উপহারও দিতে চেয়েছিলেন তারা। সেই চাওয়া অবশেষে পূরণ হয়েছে।
এই আনন্দ নিঃসন্দেহে দ্বিগুণেরও বেশি। এমনিতে বাংলাদেশের ফুটবল খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে ছিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে তলানির দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে সেভাবে কোনও সাফল্যও আসছিল না। ঠিক এই অবস্থায় বেঙ্গালুরুর সাফে এমন একটি জয়ের সঙ্গে সেমির স্বপ্নপূরণ তো বড় ঘটনাই।
এখন এখানে থেমে থাকলে হবে না। ১ জুলাই আরও বড় পরীক্ষা। প্রথম সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ কুয়েত। যারা প্রথমবার সাফে খেলতে এসে নিজেদের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। তবে বাংলাদেশ যেভাবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে তাতে করে স্বপ্ন প্রসারিত হতে বাকি নেই। এখন সাহসের সঙ্গে তারা ১ জুলাই সেমিফাইনাল জিততে পারলে মিলবে ঈদ পরবর্তী উপহারটিও!