
অনলাইন ডেস্ক :
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের একটি সেতু এখন মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের করুণ প্রতীক। একসময় এটি দিয়ে অসংখ্য মানুষ চলাচল করত, কিন্তু এখন চারপাশে শুধু থই থই পানি। সংযোগ সড়কবিহীন এই সেতুটি দেখলে মনে হয় যেন অপরিকল্পিতভাবে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু এটি আসলে মেঘনার গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথের শেষ চিহ্ন।
এক বৃদ্ধ কৃষক নুরুল আমিন বলেন, “কত মাইল পথ যে এই ব্রিজ দিয়ে পার হয়েছি তার হিসেব নেই। আজ নদী সব গিলে খেয়েছে, কিন্তু সেতুটি আমাদের করুণ স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।” আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, নদীভাঙনের ফলে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। নিঃসঙ্গ সেতুটি দেখলে মানুষের বুকের ভেতর কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফাহিম অভিযোগ করে বলেন, “নদীভাঙনে শুধু ঘরবাড়ি নয়, আমাদের রুটি-রুজির উৎসও ভেসে গেছে। আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী জানান, প্রায় এক বছর আগে সেতুটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রায় ছয় কিলোমিটার প্রতিরক্ষা প্রকল্পের একটি পরিকল্পনা একনেকে পাস হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে এই বিচ্ছিন্ন সেতুটি নিয়ে আসলে কিছুই করার নেই বলেও তিনি জানান।