বিকাল ৫:৪৯ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদন সরিয়ে নিচ্ছে ভারতের বড় গার্মেন্টসগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় টালমাটাল ভারতীয় পোশাক শিল্প। অতিরিক্ত শুল্ক দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। উদ্বিগ্ন এ পরিস্থিতিতে বড় বড় পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পোশাকের উৎপাদন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন শুল্ক চড়া হারে বাড়েনি, ওইসব দেশে তারা তাদের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাচ্ছে।এরইমধ্যে ভারতীয় শীর্ষ পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পার্ল গ্লোবাল তাদের উৎপাদন বাংলাদেশসহ চারটি দেশে সরিয়ে নেওয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্যাপ, কোলসসহ মার্কিন নামী ব্র্যান্ডে পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুল্কের ধাক্কা এড়াতে তারা ভারত থেকে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার এ উদ্যোগ নিয়েছে।বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পার্ল গ্লোবালের মহাপরিচালক পল্লব ব্যানার্জি বলেন, মার্কিন ক্রেতাদের তীব্র চাপে পড়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। “সব ক্রেতাই আমাকে সার্বক্ষণিক ফোন দিচ্ছেন। তারা চান, উৎপাদন ভারত থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হোক।”তিনি জানান, ভারতে যে সব পোশাক উৎপাদন হতো, সেগুলো এখন বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও গুয়েতেমালার মোট ১৭টি কারখানায় স্থানান্তর করা হবে। এতে ৫০ শতাংশ শুল্ক এড়ানো সম্ভব হবে।তবে কিছু মার্কিন ক্রেতা শর্ত দিয়েছেন—ভারতে উৎপাদন অব্যাহত থাকলে শুল্কের বোঝা তারা কোম্পানির সঙ্গে ভাগ করে নেবে। কিন্তু পার্ল গ্লোবালের মতে, এটি লাভজনক বিকল্প নয়।গত এপ্রিলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তখন বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও চীনের তুলনায় ভারতের ওপর শুল্ক কম থাকায় দেশটির পোশাক রপ্তানিকারকরা মার্কিন বাজারে বড় সুযোগ দেখছিলেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নয়াদিল্লির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করার ফলে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।শিল্পবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত ভারতের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশসহ বিকল্প উৎপাদনশীল দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *