সকাল ৬:২৩ মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ – আয়ারল্যান্ড এর খেলায় দারুণ জয় নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক : অসাধরণ দুটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন দুজন খেলোয়াড় । প্রতিপক্ষ  দলের বলে হ্যারি টেক্টর ও নাজমুল হোসেনের গতিপথটা একই হওয়ার সুযোগ ছিল না চেমসফোর্ডের এ রাতে। হ্যারি টেক্টরের হাতে ক্যাচ দিয়ে শেষ পর্যন্ত ফেরেন নাজমুল, তবে টেক্টরের চতুর্থ সেঞ্চুরি ম্লান করে শেষ হাসিটা প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পাওয়া নাজমুলেরই।

বৃষ্টির কারণে ৪৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের দেওয়া ৩২০ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে গেছে ৩ উইকেট ও ৩ বল বাকি থাকতেই। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়, ৩০০ বা এর বেশি রান করে পঞ্চম জয়।

বাংলাদেশের, প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৯ ওভারে ওঠে ৪০ রান করে  ফেরেন তামিম ইকবাল। আশাজাগানিয়া শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন দাসও।

বড় রান তাড়ায় বাংলাদেশকে সে অর্থে প্রথম আশা জোগায় সাকিব আল হাসান ও নাজমুলের ৪৭ বলে ৬১ রানের জুটি। আক্রমণের শুরুটা করেন নাজমুল, এরপর যোগ দেন সাকিব। সে সময়ে ৪ ওভারে ওঠে ৪৩ রান। উইকেটের খোঁজে কার্টিস ক্যাম্ফারকে বোলিংয়ে ফেরান বলবার্নি, সফলও হন। স্ল্যাশ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তোলেন সাকিব।
পরের গল্পটা নাজমুল ও হৃদয়ের। সাকিব ফেরার পর ৮ ওভারে দুজন তোলেন ৬১ রান। নাজমুল ফিফটি পূর্ণ করেন ৪৯ বলে, আগের ক্যারিয়ারসেরা ৭৩ রানকে ছাড়িয়ে যান দ্রুতই। পেসার, স্পিনার—কাউকেই তখন ছাড় দিচ্ছিলেন না দুজন। হৃদয় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পান ৪৯ বলে, দুজনের সেঞ্চুরি জুটিতে লাগে ৮০ বল।
নব্বইয়ের ঘরে দ্রুতই যাওয়ার পর সেঞ্চুরি পর্যন্ত যেতে একটু সময় নেন নাজমুল, অবশেষে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ডকরেলকে আড়াআড়ি শটে খেলা ডাবলস নিয়ে। মাইলফলকে যেতে তাঁর লাগে ৮৩ বল। সেঞ্চুরির পর উদ্‌যাপনটাও একটু বাড়তিই হয় তাঁর।

নাজমুল ও হৃদয়ের জুটি ম্যাচ বের করে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল ভালোভাবেই, আয়ারল্যান্ডকে এরপর তৃষিত ব্রেকথ্রুটা এনে দেন ডকরেল। তাঁকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ তোলেন হৃদয়। তিনি ফিরলেও শট খেলা থামাননি নাজমুল, মুশফিকের সঙ্গে তাঁর জুটিটা অবশ্য বড় হয়নি। ক্যাম্ফারের শর্ট বলে ডিপ মিড উইকেটে এ রাতের আরেক সেঞ্চুরিয়ান হ্যারি টেক্টরের হাতে ক্যাচ দেন নাজমুল।
এরপর বাংলাদেশের বড় ভরসা হয়ে ছিলেন মুশফিক, নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মিরাজও। কিন্তু ডকরেলের বলে মিরাজ এলবিডব্লু হলে একটু চাপ বাড়ে বাংলাদেশের। তাইজুল ইসলামকে নিয়ে এগোতে থাকেন মুশফিক, সমীকরণটা নাগালের মধ্যেই রাখেন তিনি। শেষের আগের ওভারে এসে তাইজুলকে এলবিডব্লু করে আয়ারল্যান্ডকে আবার আশা দেন জশ লিটল। এর আগেই রান আউট থেকে বেঁচে যান মুশফিক।
তবে মুশফিক স্নায়ু ধরে রাখেন, শেষ ওভারে ফুলটসে ক্যাচ তুললেও টেলিভিশন আম্পায়ার সেটিকে দেন নো বল। ফ্রি হিটে স্কুপ করে চার মেরে বাংলাদশের দারুণ জয় নিশ্চিত করেন মুশফিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *