রাত ১:৫০ মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনির গুলিতে ইসরায়েলি সেনা নিহত, পরে বন্ধুকধারীকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট :
অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি অবৈধ বসতির কাছে এক ফিলিস্তিনির গুলিতে ইসরায়েলি সেনা নিহতের পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যা করা হয়েছে ওই ফিলিস্তিনিকে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতির কাছে গুলি চালানোর পরে একজন ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর মতে, ওই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে একজন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছেন।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস বলেছে, চলতি সপ্তাহে জেনিনে ইসরায়েলের দু’দিনের সামরিক আক্রমণের জবাবে বৃহস্পতিবারের এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, আক্রমণকারী যে ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তাকে দখলকৃত পশ্চিম তীরের কেদুমিম বসতির কাছে তার গাড়িটি পরীক্ষা করার জন্য থামাানো হয়েছিল। গুলিবর্ষণের পর ঘটনাস্থলেই ওই সেনাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আক্রমণকারী তারপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং পরে তাকে চিহ্নিত করে হত্যা করা হয় বলে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে। ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা ফিলিস্তিনি ওই বন্দুকধারীকে পশ্চিম তীরের রামাল্লার পশ্চিমে কিবিয়া গ্রামের বাসিন্দা আহমেদ ইয়াসিন হিলাল গিথান নামে শনাক্ত করেছে।
আল জাজিরা বলছে, যে এলাকায় গোলাগুলি হয়েছে সেখানে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ থাকেন। স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।
হামাস বলেছে, ‘শত্রুরা এটা জানবে যে, জেনিনে চালানো ইসরায়েলি গণহত্যা আমাদের জনগণের প্রতিরোধের প্রতি জেদ বাড়িয়েছে এবং মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের কাজের প্রতি তাদের আনুগত্যও বাড়িয়েছে।’ ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ জেনিন শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দুই দিনের অভিযানে তিন শিশুসহ ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ওই হামলায় অন্তত ১২০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর। হামলার কারণে প্রায় ৩ হাজার ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *