সকাল ৯:৪২ মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাটকল শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদন্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলায় এক পাটকল শ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

সোমবার (২৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৪টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিুজর রহমান এ আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- চুন্নু সিকদার, মো. নাজমুল হোসেন তেবেজ, ইসলাম মীর, আতিয়ার মোল্যা, মো. নাছির খান নয়ন। প্রত্যেকের বাড়ি মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম ফরিদপুরে মধুখালী উপজেলার রাজধরপুর প্রাইড জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখে ওভারটাইম ডিউটি করতে সাড়ে ১১টার দিকে বের হয়। পথিমধ্যে নছিমনচালক চুন্নু সিকদার প্রথমে তাকে রাজধরপুর বাবু মিলিটারির কলাবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে অন্য চার আসামি তেবেজ, ইসলাম মীর, আতিয়ার ও নাছির তারাও পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ৫ আসামি তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়। পরের দিন সকালে স্থানীয়রা কলাবাগানে লাশ দেখেতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে দিন ১৬ অক্টোবর ভিকটিমের মা মুধখালী থানায় বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভিকটিমের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায়। কাজের সুবাদে তিনি মধুখালী থানার রাজধরপুর গ্রামে ভাড়া থাকতেন।
পরে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুখালী থানার এসআই সাহেব আলী ও সাইফুল আলম ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে মোবাইলের কল লিস্ট যাচাই বাছাই শেষে ওই ৫ জন আসামি উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

এ মামলার রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল বলেন, আসামিরা প্রত্যেকে নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেছেন। আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩) ধারাসহ ৩০২/৩৪ ধারায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *