
গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬: আজ ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখ রবিবার সকাল ১১:৩০টায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), গাজীপুর এর আয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ২৬ জানুয়ারি সকালে ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠ সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ও এসডিজি অর্জনে জীবাশ্ম জ্বালানির নির্ভরশীলতা হ্রাস করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন এবং ব্যবহার বৃদ্ধির সচেতনতা বাড়াতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সনাক, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট এন্ড সাপোর্ট গ্রুপ (ইয়েস), একটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শ্রেণী পেশার অর্ধ- শতাধিক নাগরিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সনাক সভাপতি যোবেদা আখতার এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মানববন্ধন আরম্ভ করা হয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব এবং জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিতে আয়োজিত মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস ২০২৬ নিয়ে টিআইবির ধারণাপত্র তুলে ধরা হয়। ধারণাপত্রের আলোকে দিবস উপলক্ষ্যে টিআইবির দাবী সমূহ উপস্থাপন করেন সনাক সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ শেকানুল ইসলাম শাহী। বক্তব্য রাখেন ইয়েস সহ-দলনেতা সুদীপ্ত চক্রবর্তী জয়, সনাক সহ-সভাপতি চিত্রা সাহা প্রমুখ। সনাকের অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিমি পারভীন, শিউলি আক্তার, নূর মোহাম্মদ রাকিব। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির রূপান্তর সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনায় টিআইবির উদ্যোগে গতবছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস উদযাপন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তাগণ বাংলাদেশের জ¦লানি খাতে সুশাসন নিশ্চিতসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির রূপান্তরে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে টিআইবি’র ০৯ দফা দাবীসমূহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনায় নেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। নয় (০৯) দফা দাবীসমূহ: ১) রাজনৈতিক দলসমূহকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বন্ধ করা এবং জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্গীকার করতে হবে; যার মধ্যে থাকবে- জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা এবং খসড়া ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৫’ চূড়ান্তকরণের পূর্বে নাগরিক সমাজ, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে চূড়ান্ত করা; ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরসহ ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জ্বালানি খাতে নীতি করায়ত্ত বন্ধ এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব প্রতিরোধসহ এখাত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা; আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও নবায়নযোগ্য লক্ষ্যমাত্রাা অর্জনে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্পে অর্থায়ন ও এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমানোর জন্য সময়াবদ্ধ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা; নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর-সংক্রান্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( স্প্রেডা)- কে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদানসহ এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তহবিল বরাদ্দ এবং গবেষণা ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা নিশ্চিত করা; এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা। ২) নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫সহ বিদ্যমান সকল নীতি ও পরিকল্পনায় অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। ৩) নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে নীতিগত অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এর উৎপাদন ও সরবরাহ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ একটি উপযুক্ত বিনিয়োগ কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে। ৪) জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান এবং দূষণ ও পরিবেশ-বিষয়ক তদারকিতে স্বচ্ছ ও যথাযথ-প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ৫) আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত জ্বালানি খাতের সকল প্রকল্প প্রস্তাব এবং চুক্তির নথি প্রকাশ করতে হবে। ৬) এনডিসি’র অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বাতিল হওয়া কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমিতে সোলারসহ নাবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। ৭) শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের নেট মিটারিং সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন সহজীকরণ, ফিড-ইন-ট্যারিফ কার্যকর এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রণোদনা প্রদান করতে হবে। ৮) নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে; স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত থেকে প্রকল্প অনুমোদন ও চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। ৯) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে সুশাসন ঘাটতি ও দুর্নীতি ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রকল্প অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, চুক্তির শর্ত নির্ধারণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।