
ডেস্ক:
কিশোরগঞ্জ সদরে মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইমরানুল হক হিমেল (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় অন্তত আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বৌলাই এলাকার বাসিন্দা জেলা যুবদলের তথ্য সম্পাদক আলী আব্বাস রাজন ও সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
যুবদলের বহিষ্কৃত দুই নেতা – জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আলী আব্বাস রাজন ও সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক এমদাদ।হিমেল নিহতের পর রাজন গ্রুপের সমর্থকরা বৌলাই এলাকায় বেশ কিছু বসতবাড়িতে কমপক্ষে পাঁচটি বাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গেলেও হামলাকারীরা তাদের রাস্তায় আটকে রাখে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আশপাশে অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সংঘর্ষে একজন মারা যাওয়াসহ অনেকেই আহত হয়েছে।’ খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটজনকে হেফাজতে নিয়েছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইমরানুল হক হিমেল নামের এক যুবক নিহতের ঘটনায় যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেলের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন- জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আলী আব্বাস রাজন ও সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক এমদাদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক আলী আব্বাস রাজন ও সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক এমদাদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে।