রাত ১:৩১ মঙ্গলবার ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার বন্ধ ঘোষণা করলো পটিয়া মাদ্রাসা

 

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি: মহাপরিচালক ও সহকারী মহাপরিচালকের দ্বন্দ্বে সৃষ্ট অচলাবস্থা আর শনিবার রাতভর তান্ডবের পর এবার অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করার ঘোষণা দিয়েছেন পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামিয়া (জমিরিয়া কাছেমুল উলুম) মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযাহ।

রবিবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসাটির মহাপরিচালক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া (জমিরিয়া কাছেমুল উলুম) পটিয়া মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হল।

বহিরাগত সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, ভাংচুর, হাঙ্গামা ও নৈরাজ্যে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে শুরার সিংহভাগ সদস্য বিশেষত শুয়ার চেয়ারম্যান ও ইত্তেহাদের সভাপতি মহোদয়ের পরামর্শে মাদরাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে করে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকের জানমাল ও ইজ্জতের হেফাজত করা যায় । মাদরাসার সামষ্টিক পরিবেশকে সু-শৃংখল ও সুন্দর করা যায় এবং বর্তমান তৈরি হওয়া গুমোট আবহাওয়া স্বাস্থকর পরিবেশে রূপান্তরিত হয়।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। ছাত্রদের আজকে সূর্য ডোবার আগে আগে সু-শৃংখলভাবে মাদ্রাসা ছাড়তে হবে। মাগরিবের পর কাউকে পাওয়া গেলে আইনানুগ বিধি প্রয়োগ হবে। মাদরাসা ও সকলের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য এই আকস্মিক ছুটি ঘোষণা করা হল।
এদিকে, দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র বেসরকারি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় পটিয়া আল জামিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযার অপসারণ দাবি করে শনিবার রাতভর বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন সহকারী পরিচালক মাওলানা আবু তাহের নদভীর অনুসারী সাধারন ছাত্ররা। এসময় মুখোশ পরিহিত বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেন মাদ্রাসার ভেতর। খবর পেয়ে পুলিশ মাদ্রাসায় গেলেও তাদেরকে মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করতে দেইনি বিক্ষোভকারীরা।

জানা যায়, শনিবার রাত ১২ টার দিকে হঠাৎ মাইকে ঘোষণা দিয়ে আবু তাহের নদভীর অনুসারী মাদ্রাসার ছাত্ররা রাস্তায় বেড়িয়ে আসে। এসময় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাত থেকে মাদ্রাসার সব গেট বন্ধ থাকায় পুলিশ ভেতরে ঢুকতে পারেনি। তবে পটিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসার উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালানো হয়।

শনিবার রাত ১২টার পর থেকে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় ছাত্ররা মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা, দরজা জানালাসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। বিক্ষোভে আহত জাকারিয়া নামের এক ছাত্রকে গুরতর আহত করেছেন। এসময় তাকে উদ্ধার করে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ভোর রাতে। তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে নদভীর অনুসারী ছাত্ররা এক দফা দাবি ঘোষণা করে মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও মুহতামিম ওবায়দুল্লাহ হামযার অপসারণ দাবি করেন। এ সময় আন্দোলনকারি ছাত্ররা মসজিদের মাইকে ওবায়দুল্লাহ হামযার অপসারণ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মাদ্রাসার সব বাতি বন্ধ করে দেন তারা।

এদিকে, রবিবার সকালে আল জামিয়া আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার একটি প্যাডে প্রকাশ হওয়া পরিচালক ওবায়দুল্লাহ হামযার পক্ষে আহমদুল্লাহ নামের একজনের স্বাক্ষরে একটি পদত্যাগ পত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখে পড়ে।

মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা আবু তাহের নদভী দাবী করেন পরিচালক ওবায়দুল্লাহ হামযা মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আমরা শূরা কমিটির বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিব।

তবে মাদ্রাসাটির মহাপরিচালক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযাহ রাতে বলেন, রবিবার সকালে বেশ কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দিয়ে অপহরণ করে প্রান নাশের হুমকি দিয়ে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি রাতে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কথা ও উদ্ভুত পরিস্থিতি এড়াতে আমরা মাদ্রাসা অনিদ্রিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করি।

পটিয়া থানার ওসি প্রিটন সরকার বলেন, পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালকের একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *