বিকাল ৫:০১ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একমঞ্চে রাহুল-কেজরিওয়াল-মমতা,বিজেপিকে রুখতে ১৭ দলের জোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তারা বিজেপিকে রুখতে ১৭ দলের জোট তৈরি করেছেন। মোট কথা, ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ঘিরে জোট বেঁধেছেন রাহুল-কেজরিওয়াল-মমতারা।
পটনা শহরের এ বৈঠককে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এরপর সিমলায় বিরোধীদের বৈঠকেই ঠিক হবে ভবিষ্যত্‍ রুপরেখা। এমনিতে একে অপরের সঙ্গে রাজনৈতিক মিল তো দূরের কথা, মনের মিলটুকুও নেই। অবশ্য প্রকাশ্যে সৌজন্যটুকু রাখে সব দলই। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে সেই শত্রুরাই যেন এবার মিত্রতে পরিণত হয়েছে!
কে নেই সেখানে; বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) প্রধান নীতিশ কুমার এবং রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী আপ নেতা ভগবন্ত মান, আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা, মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে, বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নেতা হেমন্ত সোরেন, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ার, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) প্রধান মেহেবুবা মুফতি, ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) নেতা ওমর আব্দুল্লাহ, উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টি (সপা) নেতা অখিলেশ যাদব, দ্রাবিড়া মূনেত্রা কাযাগাম (ডিএমকে) নেতা টিআর বালু, সিপিআই নেতা ডি রাজা, সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
বিহার রাজ্যের পাটনা শহরে বৈঠকের পর খাড়গে, মমতা, পাওয়ার, উদ্ধব ও কেজরিওয়ালরা সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলগুলোর এক হওয়ার বার্তা দেন। সেখানেই বিরোধীদের জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিরোধী দলগুলোর লক্ষ্য ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করা। এ ষিয়ে সিমলায় আবার বৈঠকে বসা হবে। এছাড়া তারা নির্বাচনে একসঙ্গে লড়ার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
এরপর মল্লিকার্জুন খাড়গের উদ্যোগে পরবর্তী আলোচনা বৈঠক হবে বলে জানান নীতিশ কুমার। জোটের পরবর্তী রণকৌশল তৈরি করতে সিমলার ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
রাহুল গান্ধী এ দিন বলেন, কমন অ্যাজেন্ডা তৈরি করা হবে। আলাদা আলাদা রাজ্যের জন্য কৌশল ঠিক করতে হবে। অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করতেই এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। দেশের মূল ভীতের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। মতপার্থক্য হবেই তবে সবাই একজোট হয়েই কাজ করব। সংবিধানের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পাটনায় ১৭ দলের বৈঠক হয়েছে। পাটনা থেকে যেই আন্দোলন শুরু হয় সেটা জনআন্দোলনের রূপ নেয়। তিনটা বিষয় নজরে থাকবে। আমরা এক, একসঙ্গে লড়াই করব, আমাদের বিরোধী বলবেন না। বিজেপির সরকার যে স্বৈরাচারি শাসন চালাচ্ছে সেটা বন্ধ করতে হবে। তারা ইডি-সিবিআইকে বিরোধী দলের পিছনে লাগিয়ে দেয়, সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। আমরাও দেশের নাগরিক, আমরাও দেশপ্রেমী। রক্ত ঝরবে তবুও এই কালো আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করন।
এদিন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বাসভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিজেপির মন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, পটনার বৈঠক ফটোসেশন। যতই হাত মেলান, জোট অসম্ভব। ২৪-এর ভোটে মোদিকেই জেতাবে জনতা। ৩০০-এর বেশি আসনে জিতে ক্ষমতায় আসবে মোদি সরকার।

সূত্র : জি নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *