
জয়পুরহাট প্রতিনিধি :
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় বিভিন্ন গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা, এজেন্ট মালিক জাহিদুল ইসলাম ও ইনচার্জ রিওয়ানা ফারজানা মিলে। এ ঘটনায় টাকা ফেরত চেয়ে ইসলামী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। রোববার দুপুরে তারা এই কর্মসূচী পালন করেন। পরে প্রতারিত গ্রাহকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন, আক্কেলপুর হাইটেক কিন্টার গার্ডেনের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, দারুল কোরআন মাদ্রাসার মহতামিম মুফতি ফিরোজ আহমেদ, মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব আব্দুল মান্নান ও সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক জামাল উদ্দীন।
বক্তারা জানান, ইসলামি এজেন্ট ব্যাংকের ক্যাশিয়ার মাসুদ রানা বিভিন্ন গ্রাহকের একাউন্ট থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা কৌশলে তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। পরে পুলিশ ওই শাখার মালিকসহ তিনজনকে আটক করলেও একদিন পরেই তারা আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। এ অবস্থায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন এজেন্ট ব্যাংকের গ্রাহকরা। তাই অবিলম্বে আমানতের টাকা ফেরত চান তারা।
আক্কেলপুর দারুল কোরআন মাদ্রাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমাদের মাদ্রাসার এতিম ও গরীব ছাত্রদের টাকা ওই এজেন্ট শাখায় রেখেছিলাম। সেখান থেকে ৪০ লাখ টাকা তারা আত্মসাৎ করেছে। ঈদুল ফিতরে আমাদের শিক্ষকদের কোন বেতন বোনাস প্রদান করা হয়নি। ছাত্ররাও মানবেতর অবস্থায় পড়েছে। আমরা দ্রæত টাকা গুলো ফেরৎ চাই।
ইসলামী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখার ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য আমরা পেয়েছি। এজেন্ট শাখা পরিচালনার মূল একাউন্ট থেকেও তারা টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আমরা ব্যাংকের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিয়েছি। গ্রাহকদের টাকা ফেরতের ব্যাপারে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা আকতার চৌধুরী বলেন, প্রতারিত গ্রাহকরা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা মাসিক সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গ্রাহকরা যেন দ্রæত টাকাগুলো ফেরৎ পান আমরা সেই চেষ্টাই করবো।