
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আবারে এক দিনে ৯১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দেখা দিচ্ছে গভীর মানবিক সংকট।
ইসরায়েলি বাহিনী অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে গাজার বৃহত্তম শহর গাজা সিটিতে দখল করার চেষ্টা করছে। এই হামলার কারণে শহরের মানুষদের জোরপূর্বক দক্ষিণের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু সালমিয়ার পারিবারিক বাড়ি লক্ষ্য করে শনিবার ভোরে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন আবু সালমিয়ার ভাই, ভাবি ও তাদের সন্তানরা। ডা. আবু সালমিয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকেও বলেছেন, “নিজের প্রিয়জনকে হয় শহীদ হিসেবে, নয়তো আহত অবস্থায় দেখতে হচ্ছে। এটি ভীষণ কষ্টদায়ক।”
ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা
ইসরায়েলি বাহিনী একটি ট্রাক লক্ষ্য করে আক্রমণ চালালে অন্তত চারজন নিহত হন। নিহতরা এমন হাজারো লোকের মধ্যে ছিলেন, যারা বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও কোয়াডকপ্টারের গুলির ভয়ে পালাচ্ছিল।
আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খোদারি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী বিস্ফোরকবাহী রোবট ব্যবহার করছে, যা পুরো এলাকা ধ্বংস করে দিচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিটি বিস্ফোরণে মনে হয় যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক যে উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসকরা আহতদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, আগস্ট থেকে শুরু হওয়া হামলার পর থেকে গাজা সিটি থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আক্রমণের শুরুতে শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ছিল। ইসরায়েলি সেনারা গত দুই সপ্তাহে প্রায় ২০টি টাওয়ারবাড়ি ধ্বংস করেছে। পালিয়ে আসা মানুষদের আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানবিক সংকট ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের (MSF) মিখাইল ফোতিয়াদিস জানিয়েছেন, দক্ষিণের আল-মাওয়াসিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ। মানুষ আশ্রয় খুঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কিন্তু উপকরণ নেই। সমুদ্রতীরের বালিতে তাঁবু স্থাপন করতে হচ্ছে, যেখানে পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রায় শূন্য।
হামাস দাবি করেছে, গাজায় ৪৮ জন বন্দি চলমান হামলার কারণে প্রাণহানির ঝুঁকিতে রয়েছে। কাসাম ব্রিগেডস এই বন্দিদের ছবি প্রকাশ করে এটিকে ‘বিদায়ী ছবি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ইসরায়েলে হাজারো মানুষ তেল আবিবে সমবেত হয়ে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ করছে। তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হামাসের সঙ্গে চুক্তি করার আহ্বান জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকেও চাপ দিতে বলা হচ্ছে।
জর্ডানের আম্মান থেকে আল জাজিরার হামদা সালহুত জানিয়েছেন, এসব প্রতিবাদের সরকারী প্রভাব সীমিত। নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোটের সদস্যরা এই বিক্ষোভকে সমালোচনা করছে। গাজায় আটক বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, চলমান সামরিক অভিযান তাদের প্রিয়জনদের মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কিছু প্রতিবাদ নেতানিয়াহুর পশ্চিম জেরুজালেমের বাড়ির সামনেও পৌঁছেছে।