
ডেস্ক রিপোর্ট :
খুলনা নগরীর ময়লাপোতা মোড় এলাকায় গুলি করে শেখ মো. সাদেকুর রহমান ওরফে বিহারী রানা নামে এক যুবককে হত্যা ও তার সহযোগী জাহিদুল হাসান পলাশকে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত রানার স্ত্রী হাবিবা রানু বাদী হয়ে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সোনাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে এ মামলায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন- নগরীর শেখপাড়া এলাকার লাভলু পাটোয়ারি ও তার ভাই বুলু পাটোয়ারি, সাব্বির, সৌরভ, লবণচরা এলাকার সোহেল, সোনাডাঙ্গা এলাকার মো. ফয়সাল হোসেন, চাঁনমারী এলাকার হেলাল, শামসুর রহমান রোডের সোহাগ সাহা ও তার ভাই সৌরভ সাহা, সোনাডাঙ্গা নর্থখাল ব্যাংক রোডের রাজু ওরফে ব্লাক রাজু। তবে তারা কেউ এখনও ধরা পড়েনি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক জানান, মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের জেরে রানা খুন হয়েছে। হত্যাকারীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের অপর একজন কর্মকর্তা জানান, গুলিবিদ্ধ পলাশের সঙ্গে তাদের একাধিক টিম কথা বলেছে। কিন্তু সে এখনও মুখ খোলেনি। নিহত রানা ও আহত পলাশের মোবাইলের কল লিস্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত। খুনিরা আগে থেকেই রানাকে অনুসরণ করছিল বলে তাদের ধারণা।
নিহত রানার স্ত্রী হাবিবা রানু জানান, তিনি সন্তান সম্ভাবা। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তিনি নগরীর বেসরকারি সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে তার সঙ্গে দেখা করে তার স্বামী বাহিরে যায়। হাসপাতালের বিপরীত পাশে তার বন্ধু পলাশের সঙ্গে কথা বলার সময় সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। খবর পেয়ে তিনি ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ছুটে যান। তিনি তার স্বামীকে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ জানায়, নিহত রানার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, মারামারি, প্রতারণাসহ ১০টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় সে বাড়িতে থাকতো না। আহত পলাশ নগরীর শেরে বাংলা রোডের বাসিন্দা মো. মহারাজের ছেলে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি হামলার ঘটনার বর্ণনা দেন। তবে কারা এবং কেন হামলা করেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।