
ডেস্ক রিপোর্ট :
বিভিন্ন দেশে এবার ছড়িয়ে পড়ছে নতুন এক রহস্যময় রোগ ‘হাভানা সিনড্রোম’। সাম্প্রতিক সময়ে বার বার আলোচনায় উঠে আসছে এই রোগটি যার সংক্রমণ বেড়ে চলেছে দ্রুতগতিতে। একইসঙ্গে এর কারণ ও উপসর্গ নিয়েও বাড়ছে দুম্রজাল ও উৎকণ্ঠা। সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাবিশ্বে হাভানা সিনড্রোমে ভুগছেন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার কূটনীতিক, গুপ্তচর এবং দূতাবাসের কর্মীরা। ২০০ জনেরও বেশি মানুষ এর লক্ষণ সম্পর্কে জানিয়েছেন। প্রথমে এই রোগটি কিউবায় শনাক্ত হয়। তারপরে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, কলম্বিয়া, রাশিয়া এবং উজবেকিস্তানেও এই রোগ দেখা দেয়। ভারত সরকার ইতোমধ্যে এই রোগ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। এবং এর প্রতিরোধে করণীয় কী হতে পারে সেই নীতিমালা ঠিক করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেঙ্গালুরুর এ অমরনাথের পিটিশন শেষে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
২০১৬ সালে প্রথম আমেরিকায় হাভানা সিনড্রোম শনাক্ত হয়। আক্রান্ত হয়েছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র কর্মীরা। এসময় তাদের মাইগ্রেন, বমি বমি ভাব, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মাথা ঘোরা, বাহ্যিক আওয়াজ শুনতে পাওয়া ছাড়াও কণ্ঠস্বর শ্রবণ এবং মাথা ঘোরার মতো লক্ষণগুলো উপসর্গ হিসেবে দেখা দিয়েছিল।
সেসময় সিআইএ কর্মীরা কিউবার রাজধানী হাভানায় অবস্থান করছিল। তাই রোগটির নাম দেওয়া হয়েছিল হাভানা সিনড্রোম। এসময় বেশ কয়েক মাস ধরেই হাভানা সিন্ড্রোমের লক্ষণ ছিল কিছু সিআইএ কর্মীদের মধ্যে।
হাভানা সিন্ড্রোমের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সোনিক বা অ্যাকোস্টিকের আক্রমণ। উচ্চমাত্রার শব্দ তরঙ্গ এই সময় শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। কয়েক ধরণের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা নজরদারি সরঞ্জাম থেকে মাইক্রোওয়েভের বিকিরণ এই রোগের কারণ হতে পারে। কিছু বিশেষজ্ঞ পরামর্শ জানিয়েছেন এই রোগের মানসিক প্রকাশগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাস-হিস্টিরিয়া বা সাইকোজেনিক অসুস্থতা। পরিবেশগত কারণগুলোর মধ্যে টক্সিন বা দূষণকারীর সংস্পর্শে যাওয়া। কেউ কেউ বলছেন, কিছু ভাইরাল বা সংক্রামক এজেন্ট এই রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এই রোগের সঠিক কারণ জানা যায়নি। অনুমিত কারণ সম্পর্কে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি এখনও একটি রহস্যজনক রোগ হিসেবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে যাচ্ছে।