সন্ধ্যা ৬:২৩ সোমবার ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ বছরের ইতিহাসে ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা,নিহত ফিলিস্তিনের সংখ্যা বেড়ে ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট :
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। ২০০২ সালে ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদার (স্বাধীনতা সংগ্রাম) ওপর চালানো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পর এটিই অবরুদ্ধ জেনিন শহরে চালানো তেল আবিবের সবচেয়ে বড় সেনা অভিযান। হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ জন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমনটি জানিয়েছে। হামলায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার জেরুজালেম ব্যুরো প্রধান ওয়ালিদ আল-ওমারি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানে কমপক্ষে ১৫০টি সাঁজোয়া যান, স্পেশাল এলিট ফোর্সের সদস্যসহ এক হাজার সেনাসদস্য, গোয়েন্দা ও পুলিশ অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
এর আগে সকালে জানানো হয়, ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৩ জন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সোমবার (৩ জুলাই) সকালে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কমপক্ষে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। সেই সঙ্গে হামলায় সামরিক হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তারা জেনিনের ক্যাম্পটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। এরই মধ্যে সেনাসদস্যরা বুলডোজার নিয়ে ঢুকে পড়েছে ক্যাম্পে। এসময় ক্যাম্পের ভেতর থেকে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা পাল্টা গুলি ও প্রতিরোধ চালাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্টের পরিচালক মাহমুদ আল-সাদী বলেন, জেনিনে বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে- মনে হচ্ছে পুরোপুরি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ঘরবাড়ি বোমা হামলার শিকার হয়েছে এবং পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে জেনিন শরণার্থী ক্যাম্পে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েল বাহিনী।
ইসরায়েল বাহিনীর হামলায়, বেসামরিক নাগরিক, অ্যাম্বুলেন্স, স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং বাড়ি ও মসজিদে টার্গেট করা হয়েছে।

ইসরায়েলের এ হামলা বন্ধে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আমেরিকার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, তারা ‘জেনিন এলাকায় সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে’ হামলা চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওই ক্যাম্পটিকে ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ দাবি করে তারা বলেছে, ‘সন্ত্রাসীরা আস্তানা হিসাবে জেনিন ক্যাম্প ব্যবহার করে বেসামরিক মানুষদের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে আমরা নিষ্ক্রিয় থাকব না, আমরা তা প্রতিহত করবো।’

১৯১৭ সালে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলফোর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলে শুরু হয় ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। সেই থেকে শুরু প্রতারিত, ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত, ভাগ্যবিড়ম্বিত ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। গত ৭০ বছর ধরে এই সংগ্রাম বিরতিহীনভাবে চলছে।

ফিলিস্তিনিদের প্রথম ইন্তিফাদা শুরু হয় ১৯৮৭ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওই দিন গাজার শরণার্থী শিবিরের বাইরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি লরি চাপা দিয়ে চারজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলে মানুষের চাপা ক্ষোভ জ্বলে ওঠে।
ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু হয় ২০০০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে। এটি ‘আল আকসা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। দখলদার ইসরাইলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারন বেশ কিছু সেনাসদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আল আকসা মসজিদে ঢুকে পড়লে ফিলিস্তিনিরা দ্বিতীয় ইন্তিফাদা শুরু করে।

বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে এবার শুরু হয়েছে তৃতীয় ইন্তিফাদা। আল আকসা মসজিদসহ অন্যান্য মুসলিম ঐতিহ্য ধ্বংস করে বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদীদের শহর হিসেবে চিহ্নিত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে জোরালো প্রতিবাদ শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। এরই মধ্যে ২০১৭ সালে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার ট্রাম্পের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে এবং ফিলিস্তিনিরা তৃতীয় ইন্তিফাদা শুরু করতে বাধ্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *