
বিনোদন প্রতিবেদক : ঢাকার চলচ্চিত্রের উঠতি তারকা গ্ল্যামার গার্ল অধরা খান মুক্তি পাওয়া ‘সুলতানপুর’ ছবির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণভাবে আলোচিত। তার অভিনীত চতুর্থ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে গেলো শুক্রবার। ছবিটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সুলতানপুর ছবিটি মুক্তির চলমান বিষয় নিয়েই এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অধরা খানের।
কথামালার শুরুতেই নিউ ট্যালেন্ট চিত্রনায়িকা অধরা খান জানান, করোনার সময় তার অভিনীত তৃতীয় ছবি পাগলের মতো ভালোবাসি মুক্তি পায়। এরপর লম্বা একটা সময় পর মুক্তি পেলো সুলতানপুর ছবিটি। ছবিটি মুক্তির কেমন সাড়া পাচ্ছেন – সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো মুক্তির পর থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি। অনেকেই প্রশংসা করছেন। যদিও ছবিটির খুব বেশি অংশজুড়ে আমি নেই। এই ছবির মূল নায়ক গল্প। এই ছবিতে কারণে অনেক চরিত্র এসেছে। সব চরিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালক ছবিটি নির্মাণ করেছেন।
সুলতানপুর ছবিটির প্রচারণা প্রসঙ্গে অধরা খান বলেন, আমার প্রথম দিকের ছবি ছিল ‘মাতাল’ ও ‘নায়ক’। অভিষেক ছবি হওয়ার কারণে সাংবাদিক থেকে শুরু করে সবার খুব সহযোগিতা পেয়েছি। পরবর্তী ছবি ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’ মুক্তি পেয়েছিল করোনার সময়। তখন আসলে প্রচারের সুযোগ ছিল কম। সুলতানপুর কিন্তু প্রমোশন হয়েছে। আমি প্রচার করার সুযোগ কম পেয়েছি। কারণ এই ছবিটি মুক্তির সময় আমার একটি ছবির টানা শুটিং শিডিউল ছিল। তাই হয়তো শুরুতে খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। তবে শেষ সময় যতটা পেরেছি প্রচারণায় ছিলাম।
অধরা জানান, মুক্তির দিক থেকে সুলতানপুর তার চার নম্বর সিনেমা। আগের তিনটি ছবি থেকে ‘সুলতানপুর’ এ কি অভিনেত্রী হিসেবে তিনি কতটা পরিণত হয়েছেন – সেই সম্পর্কে বলেন, যারা আমার অভিনীত সবগুলো ছবি দেখেছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি যদি ভালো করে থাকি, এটার পুরো অর্জন পরিচালকের আর খারাপ করলে দায়টা আমার। এক্ষেত্রে আমি বলবো – চরিত্র অনুযায়ী আমি কাজটা ঠিকঠাক করেছি বলে আমি মনে করি। আর অভিনয়ের সময় কিন্তু একজন অভিনেত্রী বুঝতে পারেন না, কতটা ভালো বা খারাপ হলো। সেটা পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। আমার পরিচালক সৈকত নাসির স্যার এডিটিং এ গিয়ে আমাকে ফোন করে আমার অভিনয়ের প্রংশসা করেছেন। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরও অনেকেই বলেছেন আমি ভালো অভিনয় করেছি।
পাল্টা প্রশ্নে মিষ্টি হাসির নায়িকা অধরা খানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল – এখন যে ছবিগুলোর শুটিং চলছে, সেগুলোতে অভিনয় করে আপনি তিনি নিজে কতটা সন্তুষ্ট ? এর উত্তরে বলেন, দেখুন আমার প্রথম ছবি থেকে এখনকার ছবিগুলোর পার্থক্য হলো আমি প্রতিটি ছবিতেই ভালো করার চেষ্টা করছি। আগের ছবিগুলোতে অনেকটাই না বুঝেও কাজ করেছি। এই কারণে আমার পরিচালকরা প্রংশসা করছেন। একটা কথা বলি, আমার ক্যারিয়ারের শুরুতে কিন্তু আমি অভিনয় শিখে আসিনি। নাচ থেকে অভিনয় শুরু করেছি। আর আমার চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়াটাও কিন্তু হুট করেই। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে আমি চেষ্টা করছি ভালো করতে। বলতে পারেন আমার স্বপ্ন শুরুর প্রথম ধাপ হলো চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। আমার মাত্র ৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এখন কিছু ছবির কাজ হচ্ছে। সামনে কিন্তু আরও অনেক কাজ হবে।
চলচ্চিত্রে নায়িকা হওয়ার আগ্রহ, ইচ্ছা কিম্বা কারণে সম্পর্কে অধরা খান বলেন, এক্ষেত্রে একটা কথা একটু পরিষ্কার করতে চাই – আমি কিন্তু নায়িকার জন্য নয়, অভিনেত্রী হতে চলচ্চিত্রে এসেছি। টিভিতে শাবানা ম্যাম, শাবনুর ম্যামদের ছবি দেখে দেখে বড় হয়েছি। তখন থেকেই খুব ইচ্ছা ছিল আমিও একদিন অভিনয় করবো, আমাকেও সবাই দেখবে, চিনবে। সেই স্বপ্ন থেকেই আমার চলচ্চিত্র অভিনয়ে আসা।
অধরা খান চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত জুড়ে সারা বছর ঘোরাঘুরি করেন। কিন্তু কেনো এটা ট্রাভেলিং করেন – এটা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, আসলে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে আমাদের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। মূলত সেই ব্যবসায়ের কাজেই আমাকে বিভিন্ন দেশে যেতে হয়।
পুরো কথামালায় অধরা খানের কাছে সর্বশেষ প্রশ্ন ছিল – আপনি নাকি একটি ইন্টারন্যাশনাল ওটিটি প্ল্যাটফর্মের একটি কাজ করতে যাচ্ছেন ? উত্তর দিতে গিয়ে সুন্দরী অধরা খান বলেন, এটা তো আপনাদের এখনই জানার কথা নয়! একটি ইন্টারন্যাশনাল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এর একটি ফিল্মে কাজ করার প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। তবে এটি ফাইনাল হয়ে কাজ শুরু হতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে।