সকাল ৬:৩৯ শুক্রবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ হয়ে গেল বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ,বেকার প্রায় দুই হাজার শ্রমিক

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসা বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কারখানাটির প্রায় দুই হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। টানা কয়েক মাসের বেতন বকেয়া থাকা এবং কর্মসংস্থান হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিক ও তাদের পরিবার।
রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি প্রায় দুই দশক ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল। চলতি বছরের ১৫ মে কারখানার প্রধান ফটকে স্থায়ীভাবে বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা চালুর দাবিতে শ্রমিকরা একাধিকবার বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেন।
কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী শ্রমিকরা। অনেক নারী শ্রমিকই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তাদের অনেকেই বর্তমানে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
শ্রমিকরা জানান, পুরুষ শ্রমিকদের কেউ কেউ অন্যত্র কাজ খুঁজে নিতে পারলেও নারী শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় অনেক পরিবারে খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যাংকিং জটিলতা, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং আর্থিক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। মালিকপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের সহযোগিতা ও ব্যাংকিং সুবিধা পুনরায় চালু করা গেলে কারখানাটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের রাখালিয়ায় প্রায় ১৫.৭৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সেখানে একসময় প্রায় ১,৬৮০ জন কর্মী কাজ করতেন, যাদের বড় অংশই নারী।
এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটক ও রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন। সে সময় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
স্থানীয়দের মতে, জেলার অন্যতম বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই কারখানাটি পুনরায় চালু করতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *