বিকাল ৫:২৯ শুক্রবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ নাট্যকার সেলিম আল দীনের জন্মদিন

বিনোদন ডেস্ক রিপোর্ট :

আজ ১৮ আগস্ট। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, বরেণ্য নাট্যকার ও গবেষক সেলিম আল দীনের জন্মদিন। বাংলা নাট্যসাহিত্যে নিজস্ব ভাষা, লোকজ ঐতিহ্য ও শেকড়ের গল্পকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরা এই গুণী স্রষ্টাকে জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে নাট্যপ্রেমীরা।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখীল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সেলিম আল দীন। শৈশব থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে বাংলা নাট্যসাহিত্যে তিনি এমন এক স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করেন, যেখানে বাংলাদেশের মানুষের জীবন, লোকজ সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমাজবাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সেলিম আল দীনের রচনায় বাংলার মাটি ও মানুষের জীবন গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘কিত্তনখোলা’, ‘কেরামতমঙ্গল’, ‘চাকা’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘প্রাচ্য’ ও ‘নিমজ্জন’। এসব নাটকে তিনি প্রচলিত নাট্যধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব আঙ্গিক ও ভাষার ব্যবহার করেছেন। ফলে বাংলা নাট্যসাহিত্যে তাঁর সৃষ্টি পেয়েছে আলাদা মর্যাদা।

শুধু নাট্যকার হিসেবেই নয়, গবেষক হিসেবেও সেলিম আল দীন ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি ও নাট্যঐতিহ্য নিয়ে তাঁর গবেষণা দেশের নাট্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে। মঞ্চনাটকের বিকাশেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাঁর হাত ধরেই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় শেকড়ের সন্ধান ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়টি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

নাট্যসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও গবেষণা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁকে স্থায়ী আসন দিয়েছে।

২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মাত্র ৫৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সেলিম আল দীন। তাঁর চলে যাওয়া বাংলা নাট্যাঙ্গনের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর লেখা নাটক, গবেষণা ও নাট্যভাবনা আজও নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও নাট্যকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *