বিকাল ৫:২৯ শুক্রবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিচালনা শুধু একটা পেশা নয়, বরং গল্প বলার দায়িত্ব ও সৃজনশীল মাধ্যম : মেরাজ আহমেদ দীপু

মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত তরুণ প্রজন্ম যুক্ত হচ্ছে, এসময়ের জনপ্রিয় নাট্য পরিচালক মেরাজ আহমেদ দীপু ঠিক তেমনি তরুণ প্রজন্মের পরিচালক। আপনার সংবাদ এর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথপোকথন তুলে ধরা হলো।

১। একজন ডিরেক্টর হিসেবে আপনার পথচলা কীভাবে শুরু?

উত্তর :. আমি ছোট থেকেই একজন থিয়েটার কর্মী ছিলাম তারপর পরিচালনার প্রতি আমার আগ্রহটা অনেক আগে থেকেই ছিল। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, অনেক বড় বড় পরিচালক দের সঙ্গে সহকারী পরিচালক এর কাজ করেছি এবং প্রতিটি কাজ থেকেই নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে পরিচালনা শুধু একটি পেশা নয়, বরং গল্প বলার একটি দায়িত্ব ও সৃজনশীল মাধ্যম।

২।একটি নাটক পরিচালনার ক্ষেত্রে গল্প নির্বাচনের সময় আপনি কোন বিষয় গুলো গুরুত্ব দেন?

উত্তর :. গল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখি গল্পটির মধ্যে দর্শককে আকৃষ্ট করার মতো শক্তি আছে কি না। পাশাপাশি গল্পটি কতটা বাস্তবসম্মত, এর চরিত্রগুলো কতটা জীবন্ত এবং গল্পের মাধ্যমে দর্শক কোনো অনুভূতি, বার্তা বা উপলব্ধি নিয়ে ফিরতে পারবেন কি না—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিই। আমি বিশ্বাস করি, একটি ভালো গল্প শুধু বিনোদন দেবে না; দর্শকের মনে কিছু প্রশ্নও তৈরি করবে।

৩। একজন ভালো অভিনেতা -অভিনেত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার প্রধান বিবেচনা কী?

উত্তর :. আমার কাছে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, চরিত্রের সঙ্গে শিল্পীর মানানসই হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিনেতা চরিত্রটিকে কতটা বুঝতে পারছেন, আবেগকে কতটা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারছেন এবং পরিচালকের নির্দেশনা কতটা গ্রহণ করতে পারছেন—এসব বিষয় আমি বিবেচনা করি। অনেক সময় নতুন শিল্পীর মধ্যেও অসাধারণ সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাটাও খুঁজে বের করার চেষ্টা করি।

৪।শুটিংয়ের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী এবং আপনি কিভাবে তা মোকাবেলা করেন?

উত্তর : শুটিংয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সীমিত সময় ও নানা ধরনের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে কাজটিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ করা। লোকেশন, আবহাওয়া, শিল্পীদের সময়সূচি কিংবা কারিগরি কোনো সমস্যা—যেকোনো কিছুই হঠাৎ সামনে আসতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আমি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখি এবং সমস্যাকে চাপ হিসেবে না দেখে সমাধানের অংশ হিসেবে দেখি। পুরো টিমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই আমার পদ্ধতি।

৫। একজন অভিনেতার কাছ থেকে আপনি কী ধরনের পেশাদারিত্ব আশা করেন?

উত্তর : অবশ্যই সবার প্রথমে বলবো সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ, স্ক্রিপ্ট ও চরিত্র সম্পর্কে প্রস্তুতি এবং পুরো টিমের প্রতি সম্মান—এগুলো একজন অভিনেতার পেশাদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করি। পাশাপাশি পরিচালকের নির্দেশনা বুঝে চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতাও থাকা দরকার। একজন শিল্পী যত বেশি প্রস্তুত থাকবেন, কাজটি তত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

৬।আপনারা পরিচালিত কাজগুলোর মধ্যে কোন কাজটি আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় এবং কেন?

উত্তর: আমার পরিচালিত প্রতিটি কাজই আমার কাছে আলাদা কারণে স্মরণীয়। কারণ প্রতিটি কাজের সঙ্গে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন মানুষ এবং নতুন কিছু শেখার গল্প জড়িয়ে থাকে। তবে যে কাজগুলো দর্শকের কাছ থেকে ভালোবাসা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে, সেগুলো অবশ্যই একটু বেশি বিশেষ। একজন পরিচালক হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো—দর্শক যখন একটি কাজ দেখে সেটিকে নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে অনুভব করেন।

৭। বর্তমান সময়ের নাটক ও চলচ্চিত্রের মান নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

উত্তর : বর্তমানে আমাদের নাটক ও চলচ্চিত্রে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। গল্প বলার ধরন, নির্মাণ প্রযুক্তি, অভিনয় এবং উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে আরও ভালো গল্প, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া দরকার। দর্শক এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা ভালো কাজকে সহজেই গ্রহণ করেন। তাই আমাদের নির্মাতাদেরও দর্শকের রুচি ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের আরও উন্নত করতে হবে।

৮।ভবিষ্যতে দর্শকদের জন্য কী ধরনের কাজ উপহার দিতে চান?

উত্তর: আমি এমন কাজ করতে চাই, যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি গল্পের একটি শক্তিশালী ভিত্তি থাকবে। মানুষের জীবনের বাস্তবতা, সম্পর্ক, আবেগ, সামাজিক সমস্যা এবং আমাদের চারপাশের পরিচিত গল্পগুলোকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে এমন কিছু কাজ উপহার দেওয়া, যা দর্শক শুধু দেখবেন না—দেখার পর কিছুক্ষণ সেই গল্প ও চরিত্রগুলো নিয়ে ভাববেন। একজন পরিচালক হিসেবে দর্শকের ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জন করাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *